ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

২২ বছর ধরে শিকলবন্দী আবুল খায়েরের দুর্বিষহ জীবন

২২ বছর ধরে শিকলবন্দী আবুল খায়েরের দুর্বিষহ জীবন
×

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন আবুল খায়ের। ছবি: সমকাল

কুমিল্লা ও মুরাদনগর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৯:৫২ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ০৯:৫২

আবুল খায়েরের স্ত্রী ছেড়ে চলে গেছেন। মা বাবা ভাই বোন তারাও মারা গেছেন। একটি ছোট্ট টিনের ঘরেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বিনা চিকিৎসায় দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কোমরে শিকলবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন আবুল খায়ের এখন বেঁচে আছেন অন্যদের সহায়তায়। আর্থিক সংকট ও সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় অসহায় এ ব্যক্তির দুর্বিষহ জীবন চলছে খেয়ে না খেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর বয়সে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল আবুল খায়েরের। বিয়ের তিন বছর পর থেকেই তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কখনো হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আশপাশের মানুষকে মারধর করতেন, আবার কখনো স্থানীয়দের নানা ভাবে বিরক্ত করতেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে তাকে শিকলবন্দি করেন তার বাবা নুর মিয়া। এরপর থেকেই শিকলবন্দি জীবন শুরু হয় আবুল খায়েরের। এরই মধ্যে প্রায় ১৫ বছর আগে মারা যান তার বাবা-মা। সন্তান না থাকায় আগেই তাকে ছেড়ে চলে যান স্ত্রী। আপন কোনো ভাই না থাকায় বর্তমানে তার একমাত্র ভরসা চাচাতো ভাই সিএনজি চালক আব্দুর রহমান।

আব্দুর রহমান জানান, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আবুল খায়েরকে দেখাশোনা করছেন তিনি। বাবার রেখে যাওয়া মাত্র অর্ধ শতাংশ জায়গার ওপর একটি ছোট্ট টিনের ঘর নির্মাণ করে সেখানে রাখা হয়েছে তাকে। তবে টাকা পয়সা না থাকার কারণে কোনো উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। 

তিনি আরও জানান, গ্রামের মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় পাঁচ বছর আগে আবুল খায়েরকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নানা জটিলতার কথা বলে তাকে ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর আর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন কোমরে শিকল বাঁধা থাকায় বর্তমানে সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারেন না আবুল খায়ের। তবুও চাচাতো ভাই আব্দুর রহমানের বিশ্বাস, যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হলে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন তিনি। 

স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সমাজের বিত্তবানদের নিকট আহবান জানাচ্ছি অসহায় এ ব্যক্তিকে সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য। চিকিৎসা পেলে সে (খায়ের) সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারেন। 

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.বি.এম সারোয়ার রাব্বী সমকালকে বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। অসহায় এই ব্যক্তিকে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে আমরা সহায়তা করবো।

আরও পড়ুন

×