২শ বছরের ঐতিহ্য মেনে মির্জাখীল দরবারে ঈদ বুধবার
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মির্জাখীল দরবার শরীফ। ছবি: সংগৃহীত
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ১৬:২২
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা (ইয়াওমুন নাহর) উদযাপন করবেন। সৌদি আরবে ‘ইয়াওমুল আরাফাহ’ বা হজ দিবসের পরদিন ঈদ পালনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসরণ করেই তারা এ উৎসব পালন করছেন।
দরবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় মির্জাখীল দরবার শরীফের মূল খানকাহ মাঠে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন দরবারের বর্তমান সাজ্জাদানশীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান।
মির্জাখীল দরবার শরীফ সূত্রে জানা গেছে, হানাফি মাযহাবের নিখুঁত অনুসরণে প্রায় দুইশ বছর ধরে দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবে হজ পালনের পরদিনই ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। দরবারের পূর্বসূরি ও অলি-বুজুর্গ হজরত শাহ জাহাঁগীর শেখুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর ফখরুল আরেফীন (ক.), হজরত শাহ জাহাঁগীর শমসুল আরেফীন (ক.) এবং হজরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন (ক.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এ রীতি চালু রয়েছে।
জানা গেছে, সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল, এওচিয়ার গাটিয়াডাঙ্গা, আলীনগর, মাদার্শা, খাগরিয়া, মৈশামুড়া, পুরানগড়, বাজালিয়া, মনেয়াবাদ, চরতি, সুঁইপুরা ও হালুয়াঘোনাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ বুধবার ঈদ উদযাপন করবেন। এছাড়া চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর, হারালা, বাইনজুরি, চরবরমা, কেশুয়া, কানাই মাদারি, সাতবাড়িয়া, বরকল, দোহাজারী ও জামিরজুরিসহ শতাধিক গ্রামের অনুসারীরাও একই দিনে ঈদ পালন করবেন।
এছাড়া বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, পটিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ ও রাউজানের বহু গ্রাম এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অনুসারীরা একই দিনে ঈদ উদযাপনে অংশ নেবেন। ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, চাঁদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, বরিশাল ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকার মুরিদ ও ভক্তরাও এদিন ঈদ উদযাপন করবেন বলে জানিয়েছে দরবার কর্তৃপক্ষ।
ঈদ উদযাপনের ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করে মির্জাখীল দরবার শরীফের অন্যতম দায়িত্বশীল ব্যক্তি মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, 'আমরা হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ অনুসারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পবিত্র হজ দিবসের পরদিনই ঈদুল আজহা পালন করে আসছি।'
তিনি বলেন, 'চাঁদের অবস্থান ও হজের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবারও আরাফাতের ময়দান থেকে হজের আনুষ্ঠানিকতা এবং মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা সরাসরি প্রত্যক্ষ করার পর দেশ-বিদেশে সিলসিলায়ে আলীয়া জাঁহাগীরিয়া ও মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা বুধবার ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি সম্পন্ন করা হবে।'
দরবার শরীফ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ঈদের নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হবে।
