ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শরীয়তপুরের ৫০ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন

শরীয়তপুরের ৫০ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন
×

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় নড়িয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুরেশ্বর দরবার শরীফ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সমকাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ১৫:৫৭ | আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ | ১৬:০২

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের প্রায় ৫০টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। শতবর্ষের পুরোনো ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দেশের মূলধারার চাঁদ দেখার সিদ্ধান্তের একদিন আগেই ঈদ পালন করেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় নড়িয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সুরেশ্বর দরবার শরীফ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন দরবারের গদীনশীন পীর সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী। শরীয়তপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো ভক্ত-অনুরাগী জামাতে অংশ নেন।

জানা গেছে, সুরেশ্বর দরবার শরীফের অনুসারীরা ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ উদযাপন করে আসছেন। তাদের বিশ্বাস, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলেই ইসলামী মাস গণনা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও বুধবার সকাল থেকেই ঈদের আনন্দে মেতে ওঠেন অনুসারীরা।

ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দরবার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং সেমাই, পায়েসসহ বিভিন্ন খাবার বিতরণ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বংশপরম্পরায় তারা এই ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে আসছেন।

দরবার সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরের ছয় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ রীতি প্রচলিত রয়েছে। অতীতের মতো এবারও কয়েকটি গ্রামে সীমিত পরিসরে কোরবানির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বগুড়া, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুরের কয়েকটি এলাকাতেও সৌদির সঙ্গে মিল রেখে বুধবার ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঈদের জামাতে অংশ নিতে আসা ভক্ত ইব্রাহিম হোসেন বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকেই তারা এই নিয়মে ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। ছোটবেলা থেকেই গ্রামের মানুষকে একসঙ্গে আগাম ঈদের জামাতে অংশ নিতে দেখেছেন। এবারও পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×