কুড়িগ্রামে নদীভাঙনের আশঙ্কায় বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি
ছবি: সমকাল
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬ | ১৮:২৪
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিং বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট বাঁধ এলাকায় সচেতন তরুণ সমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং অব্যাহত থাকায় নদের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। নদীতীরবর্তী বহু পরিবার বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবার নদীগর্ভে জমি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলন ও অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিং বন্ধ, প্রশাসনের জব্দ করা বালু কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত অপসারণ এবং পরিবেশসম্মত নদী খনন নিশ্চিত করা, কাঁচকোল থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, টি-বাঁধ, পিসি ব্লক ও জিও ব্যাগসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিয়মিত টহল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।
চিলমারী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক নিহারিকা শারমিন দিপির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। তিনি বলেন, ‘নদী ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক চরিত্র নষ্ট হচ্ছে। নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা আজ হুমকির মুখে। জনস্বার্থে এসব কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
এ সময় আরও বক্তব্য দেন ফকিরের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন, উন্নয়নকর্মী মো. শাহজামাল, খন্দকার বদরুল ইসলাম, আশিক ইকবাল, সোহেল রানা, রফিজুল ইসলাম রতন, ব্যবসায়ী মুকুল মন্ডলসহ অন্যরা।
- বিষয় :
- বালু উত্তোলন
- মানবন্ধন
