রাসেল-মুনা দম্পতি নতুন অ্যাথলেটদের অনুপ্রেরণা
আজহারুল ইসলাম রাসেল ও মোরসালিনা আক্তার মুনা দম্পতিকে সংবর্ধনা’
ইজাজ আহ্মেদ মিলন, গাজীপুর
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৩:৫৬
প্রতিটি সাফল্যের পেছনে থাকে সংগ্রামের গল্প। কখনও সেই গল্প একজন মানুষের, কখনও একটি পরিবারের। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের আজহারুল ইসলাম রাসেল ও মোরসালিনা আক্তার মুনা দম্পতির গল্পটি তেমনই এক অনুপ্রেরণার– যেখানে অ্যাথলেটিকসের ট্র্যাক, সংসারের দায়িত্ব আর দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার স্বপ্ন এক সুতোয় গাঁথা।
অ্যাথলেটিকসে দীর্ঘদিনের অবদান ও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ গত রোববার সন্ধ্যায় শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার ফুড কিং রেস্টুরেন্টে এই ক্রীড়াবিদ দম্পতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় ‘পারিবারিক সংবর্ধনা’। অনুষ্ঠানে তাদের স্বজনদের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট।
চার সন্তানের জনক-জননী রাসেল ও মুনা শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই নন, পারিবারিক জীবনেও তৈরি করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সংসারের দায়িত্ব সামলিয়ে নিয়মিত অনুশীলন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনার এই পথচলাকে উপস্থিত অতিথিরা অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
শ্রীপুরের তেলিহাটী ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে আজহারুল ইসলাম রাসেল দেশের অ্যাথলেটিকস অঙ্গনে এক পরিচিত নাম। ২০১০ সালে তিনি ‘বাংলাদেশের দ্রুততম মানব’ খেতাব অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। ক্যারিয়ারে তিনি জিতেছেন ৯২টি পদক। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেটিকস দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠে একজন সফল অ্যাথলেট থেকে কোচ হিসেবে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার কাজও করছেন সমান দক্ষতায়।
অন্যদিকে তাঁর সহধর্মিণী মোরসালিনা আক্তার মুনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল এক নাম। শট পুটে জাতীয় রেকর্ডধারী এই অ্যাথলেট আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও বাংলাদেশের জন্য সাফল্য এনে দিয়েছেন। ২০২৫ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিকসে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর চলতি বছর মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মাস্টার্স অ্যাথলেটিকসে শট পুট ও ডিসকাস– দুই ইভেন্টেই স্বর্ণপদক অর্জন করে দেশের পতাকা উড়িয়েছেন তিনি।
এখন তাদের লক্ষ্য আরও বড়। আগামী আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুনা। পাশে আছেন রাসেলও। জীবনের প্রতিটি ধাপে একে অপরের শক্তি হয়ে ওঠা এই দম্পতি দেখিয়ে দিচ্ছেন, স্বপ্নের কোনো বয়স নেই; ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে সাফল্যের পথ কখনও থেমে থাকে না।
শ্রীপুরের মানুষও তাদের এই অর্জনে গর্বিত, আর নতুন প্রজন্মের কাছে রাসেল-মুনা হয়ে উঠেছেন স্বপ্ন ছোঁয়ার এক জীবন্ত উদাহরণ। অনুষ্ঠানে রাসেল ও মুনা তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। নানা স্মৃতিচারণ করেন। তারা আরও বহুদূর যেতে চান বলেও জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ এক বিরল ঘটনা। স্বামী-স্ত্রী দুজনই বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আর লাল-সবুজের পতাকা উড়াচ্ছেন নানা দেশে। তাদের কাছ থেকে অণুপ্রেরণা পাবে নতুন প্রজন্ম।
