মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ
ভোলা সদর উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামে তোফায়েল আহমেদকে দাফন করা হয়। ছবি: সমকাল
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ১৮:৩১ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ১৯:৫৮
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদকে ভোলায় দাফন করা হয়েছে। সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এরআগে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ নিয়ে হেলিকপ্টার ভোলায় পৌঁছায়। সেখানে আগে থেকেই তার অনুসারী ও আওয়ামী লীগের কয়েক’শ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তোফায়েল আহমেদের মেয়ে ডা. তাসলিমা জামান মুন্নি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
হেলিকপ্টার থেকে মরদেহ নামিয়ে তোলা হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্সে। পুলিশের গাড়ি ও কর্মীদের মোটরবহরসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি যায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে। এই স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে জানানো হয় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের চৌকস দল গার্ড অব অনার জানায়।

জানাজার আগে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং তোফায়েল আহমেদের মেয়ের জামাই ডা. তোহিদুজ্জামান তুহিন। গোলাম নবী আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। নিহতের পরিবারের পক্ষে সকলের কাছে দোয়া চান জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন।
পরে তোফায়েল আহমেদের ভাগ্নে আশরাফুজ্জামান রাজিব বলেন, ‘শুধু আমরা এতিম হইনি, অভিভাবক হারা হলেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।’ ভোলা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ছালাউদ্দিন লিংকন বলেন, ‘জাতীয় নেতার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের অনেক ক্ষতি হয় গেল।’
জানাজা শেষে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মরদেহ নেওয়া হয় তার জন্মস্থান সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদীর কোড়ালিয়া গ্রামের বাড়িতে। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হন তোফায়েল আহমেদ।
এরআগে, সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে সেখানে ভর্তি হন। সেই থেকে হাসপাতালেই ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে ২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
- বিষয় :
- আওয়ামী লীগ
- তোফায়েল আহমেদ
- দাফন সম্পন্ন
- ভোলা
