ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মাদ্রাসার জমি দখল করে দোকান নির্মাণ

মাদ্রাসার জমি দখল করে দোকান নির্মাণ
×

আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার জমিতে দোকান নির্মাণ সমকাল

 আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার জমি দখল করে একাধিক দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
গোপীনাথপুর-ফুলদীঘি সড়কের দক্ষিণ পাশে মাদ্রাসার প্রায় ১১ শতক জমি রয়েছে। কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মৌখিক অনুমতিতে আলাল উদ্দীন সেখানে একটি দোকানঘর নির্মাণ করেন এবং মাসিক ৩০০ টাকা ভাড়া দিতেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আর ভাড়া দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ফারুক ও রাসেল হোসেন ওই জমিতে আরও দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত নাহিদ প্রধানের কর্মসংস্থানের কথা বলে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজার রহমান তোতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী সোহেল রানা মাদ্রাসার জমিতে নতুন করে একটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ সময় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
ইউএনওর কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকদিন আগে হাফিজার রহমান তোতা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসার জমিতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করেন। বাধা দিলে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দোকানঘর নির্মাণের জন্য মাদ্রাসার পুরোনো টিনও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
মাদ্রাসার জমিদাতা ফুলবর রহমান সোনার বলেন, ‘মাদ্রাসার ১১ শতক জমিতে কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে দোকানঘর নির্মাণ করে জমি দখল করা হয়েছে। আমরা একাধিকবার বাধা দিয়েও সফল হইনি। এখন মানবিকতার আড়ালে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত একজনকে সামনে রেখে জমি দখলের নতুন অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজার রহমান তোতা। তিনি বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত নাহিদ প্রধানের কোনো উপার্জনের পথ নেই। মানবিক বিবেচনায় তাঁর কর্মসংস্থানের জন্য দোকানঘর নির্মাণে সহযোগিতা করেছি। বর্তমান মাদ্রাসার কোনো ম্যানেজিং কমিটি নেই। গ্রামের মানুষ ও শিক্ষকরা বিষয়টি জানেন। বরং কিছুদিন আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপনে মাদ্রাসার টিন বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন, আমরা প্রতিবাদ করেছি। সেই ক্ষোভ থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রাজ্জাক সরদার বলেন, ‘মাদ্রাসার নিজস্ব জমি জবরদখল করে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছি।’

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, ‘মাদ্রাসার বৈধ ম্যানেজিং কমিটি থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কমিটিকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে জোর করে মাদ্রাসার জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জমিটি সরকারি নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি। তাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে আইনগত প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন

×