ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

নোয়াাখালীতে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর খালে মিলল যুবকের মরদেহ

নোয়াাখালীতে নিখোঁজের ১৫ ঘণ্টা পর খালে মিলল যুবকের মরদেহ
×

প্রতীকী ছবি

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ১৫:৫৪

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর সাদ্দাম হোসেন (২৪) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচে খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের দিন রাত ৯টার দিকে নানা বাড়ি থেকে বের হন সাদ্দাম।

নিহত সাদ্দাম একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুর গ্রামের আরজু মেম্বার বাড়ির হকসাবের ছেলে। তবে কীভাবে যুবক মার গেছেন সে ব্যাপারে নিশ্চিন্ত করে কিছু বলতে পারেনি বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।

নিহতের মামা মো. ইমাম আলী জানান, সাদ্দাম চট্টগ্রামে ইগলু আইসক্রিম কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ঈদের ছুটিতে সাদ্দাম বাড়িতে এসেছিলেন। ঈদের আগে আবুধাবি থেকে তার মেজো মামা আইয়ুব দেশে ফেরেন। বুধবার বিকেলে সাদ্দাম পাশের বাড়ির একজনের বাইসাইকেল নিয়ে শরীফপুর ইউনিয়নের গয়েসপুর গ্রামের রুস্তম আলী বেপারী বাড়িতে মামার সঙ্গে দেখা করতে যান। রাত ৯টার দিকে তিনি সেখান থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

সাদ্দামের মামী খাদিজা বেগম বলেন, বুধবার বিকেলে সাদ্দাম তার নানির সঙ্গে দেখা করে খাবার খেয়ে নানার বাড়ির এলাকা ঘুরে দেখেন। রাত ৯টার দিকে সাদ্দাম বাড়ি যাওয়ার জন্য বললে আমরা রাতে যেতে বারন করলে সে জানায় বৃহস্পতিবার চট্রগ্রামে যেতে হবে। এর পর সাদ্দাম কাউকে কিছু না বলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বাইসাইকেলের মালিক এসে সাদ্দামের খোঁজ করেন এবং বাইসাইকেলের জন্য রাগারাগি করেন। এরপর সাদ্দামের মা নুর বানু তার ছেলের মোবাইলে কল করলে তা বন্ধ পান। আমার ফোনে কল দিয়ে সাদ্দামের সন্ধান জানতে চাইলে বলি, সাদ্দাম তো গতরাত ৯টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এ কথা শুনে তার মা ছেলের জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

খাদিজা আরও জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের নিচে খালে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাদ্দামের মামা ও স্বজনরা মরদেহটি সাদ্দামের বলে শনাক্ত করেন। তার দাবি, মরদেহের হাত, নাক ও কান রক্তাক্ত ছিল।

নিহতের মামা ইমাম আলীর দাবি, বাড়িতে জমি নিয়ে তার চাচাদের সঙ্গে সাদ্দামের বিরোধ চলছিল। সাদ্দাম ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে প্রতিনিয়ত হুমকির মধ্যে রাখেন। তার দাবি, তার ভাগিনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাজুল ইসলাম ভূট্রো বলেন, নিহত যুবকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। 

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থলে সাদ্দামের মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি পাওয়া গেলেও তার ব্যবহৃত সাইকেলটি পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খাঁন বলেন, নিহত যুবকের সাইকেটি পাওয়া যায়নি। সে কীভাবে মারা গেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

আরও পড়ুন

×