খাল দখল নিয়ে আ.লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, আহত ১২
প্রতীকী ছবি
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ১৬:৪৩
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সরকারি খালের দখল ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খুঁটিকাটা-কাঠালবাড়িয়া গ্রামের সংক্রান্তির খাল এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, খালটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ওই খালে মাছ ধরতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন (৬০), বিএনপি কর্মী কবির হোসেন (২৬), জামায়াত-শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ (৩২), আরাফাত হোসেন (২৭), আক্তার হোসেন (২৬), নাজমা খাতুন (২২), মোমিন মোড়ল (৬৫) ও লায়লা বেগম (৬৫)। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক কর্মী খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলামের অনুসারীরা বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বিএনপির কিছু কর্মী জামায়াত-শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে মারধর করে।
অন্যদিকে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন দাবি করেন, খালটির ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও নতুন ইজারা না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় দরিদ্র মানুষ মাছ ধরতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছেন এবং খালে মাছ চাষ চলমান ছিল। তার অভিযোগ, জামায়াত নেতার নেতৃত্বে রড ও শাবলসহ হামলা চালানো হয়।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সরকারি খালের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
