ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

বানিয়াচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

বানিয়াচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
×

ছবি: সমকাল

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ১৭:৫৯

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উচ্চ আদালতের এক আদেশে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদকে স্বপদে বহাল রাখা হয়। আদালতের রায়ের পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিনের সমর্থকদের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘উচ্চ আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং স্বপদে বহাল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ প্রশাসনকে জানিয়ে পরিষদে এসেছিলাম। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিন আদালতের সেই আদেশ সরাসরি অমান্য করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছেন। তিনি এবং তার অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে আমার লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে।’

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আদালতের আদেশের একটি আইনি প্রক্রিয়া ও চেইন অব কমান্ড আছে। জেলা বা উপজেলা প্রশাসন থেকে আমাকে অফিশিয়ালি দায়িত্ব হস্তান্তরের কোনো লিখিত নির্দেশনা আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সরকারি নিয়ম অমান্য করে ফরিদ আহমেদ তার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদে ঢুকে ক্ষমতা দখল করতে চান। আমাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অথচ উনার লোকেরাই বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে প্রথমে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নজমুল হক বলেন, ‘দায়িত্ব হস্তান্তরকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করতে হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

আরও পড়ুন

×