রংপুরের সবজি বাজার
৭০ গজ দূরেই দাম তিন গুণ
পাইকারিতে ৫-৭ টাকা, খুচরা বাজারে ২৫-৩০ টাকা কেজি
আলতাফ হোসেন দুলাল, রংপুর
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরবাজারে গতকাল মঙ্গলবার পাইকারি বাজারে প্রতি মণ বরবটি বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা এবং ঝিঙা ২৮০ টাকায়। এ হিসাবে কেজিপ্রতি বরবটির দাম পড়ে সাত টাকা ৫০ পয়সা, আর ঝিঙার দাম সাত টাকা। একই বাজার থেকে মাত্র ৭০ গজ দূরের খুচরা বাজারে একই দুই সবজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের পার্থক্য তিন গুণেরও বেশি। এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষক।
শুধু বদরগঞ্জ নয়, রংপুরের আট উপজেলাতেই গত এক সপ্তাহ ধরে অধিক উৎপাদন ও সরবরাহের কারণে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। তবে এর সুফল খুচরা পর্যায়ের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বদরগঞ্জের পাইকারি সবজি বাজারে দেখা যায়, এক মণ বরবটি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন উপজেলার কালুপাড়া গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, ‘বরবটি জমিতে খুব ধরছে। কিন্তু এখন দাম নাই। সকালে এক মণ বরবটি নিয়ে বাজারে আসছি। আড়াইশ টাকা দাম করছিল।’ এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে এক মণ বরবটি মাত্র ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। পরে আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাজারে খাজনা ২০ টাকা, বাড়ি থেকে বাজারে আসা-যাওয়ার ভাড়া ৭০ টাকা। তা হলে আমরা চাষাবাদ করে চলব কীভাবে?’
মতিয়ার রহমান জানান, ১২ শতক জমিতে বরবটি চাষ করতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় সাত হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র দুই হাজার টাকা। তাঁর আশঙ্কা, এ মৌসুমে বরবটি চাষে লোকসানই গুনতে হবে।
একই বাজারে বস্তাভর্তি ঝিঙা নিয়ে বসেছিলেন তালুক দামোদরপুর গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম আলী। তিনি বলেন, ‘১০-১২ দিন আগে ঝিঙা পাইকারিতে ২৫-৩০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। আমদানি বেশি হওয়ায় আজ ২০০ টাকা মণ, পাঁচ টাকা কেজি।’
তিনি বলেন, আমাদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে কিনে ব্যবসায়ীরা ৬০-৭০ গজ দূরের খুচরা বাজারে ২৫-৩০ টাকা কেজি বিক্রি করছে।
ইব্রাহিম আলী জানান, ৩০ শতক জমিতে ঝিঙা চাষে তাঁর ব্যয় হয়েছে ২৪ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৯ হাজার টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বদরগঞ্জের পাশাপাশি মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, রংপুর সদর ও কাউনিয়ার পাইকারি বাজারগুলোতেও গত সাত দিন ধরে সবজির দাম পড়ে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার ওই উপজেলাগুলোর পাইকারি বাজারে প্রতি মণ শসা বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা, কাঁচামরিচ ৯০০ টাকা, পটল ১০০০ হাজার টাকা, করলা ৫০০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৪০০ টাকায়।
অন্যদিকে খুচরা বাজারে শসা ২৫-৩০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা এবং বরবটি, করলা, ঝিঙা ও ঢেঁড়স ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
কমছে না খুচরা বাজারের দাম
রংপুর পৌরবাজারে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ৩০ টাকা কেজি দরে ঝিঙা কিনেন বেসরকারি চাকরিজীবী তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুনলাম পাইকারি বাজারে সবজির দাম অনেক কমেছে। সকালে ঝিঙা নাকি পাঁচ-ছয় টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারে তো দাম কমে না।
মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ বাজারের খুচরা বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, বাজারে সরবরাহের ওপর নির্ভর করেই সবজির দাম ওঠানামা করে। ১০ দিন আগে পটল, ঢেঁড়স, বরবটি, করলা, ঝিঙা ও শসা ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন সেগুলো ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
কাউনিয়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা সমছের আলী, রংপুর সদরের শরিফুল ইসলাম ও বদরগঞ্জ বাজারের সফিকুল ইসলাম জানান, তাঁরা পাইকারি বাজার থেকে বস্তাভর্তি সবজি মণ হিসেবে কিনে বাছাই করেন। অনেক সময় পচা সবজিও বের হয়। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেশি রাখতে হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। আবাদ ভালো হওয়ায় ও বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে।
- বিষয় :
- বাজার