ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সার্ভারে ওঠেনি নাম খতিয়ান জমি বেচাকেনায় বিপাকে

সার্ভারে ওঠেনি নাম খতিয়ান জমি বেচাকেনায় বিপাকে
×

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৮:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুর সদর উপজেলার ঘোড়াধাপ এলাকার কৃষক আন্তাজ আলী ও তাঁর ভাই জালাল উদ্দিন জমি বিক্রির জন্য ক্রেতার কাছ থেকে বায়নার টাকা নিয়েছেন ১০ লাখ। ওই টাকায় মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানও সম্পন্ন করেছেন আন্তাজ আলী। কিন্তু ছয় মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরেও করতে পারেননি নামজারি। তাই খাজনা দিতে না পেরে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে পারছেন না। ক্রেতার চাপে জমির নামজারির জন্য ভূমি অফিসে ঘুরছেন তারা। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।

আন্তাজ আলী ও জালাল উদ্দিনের মতো আরও অনেকে নামজারি-খারিজ নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন।
সদর উপজেলা ভূমি অফিসের তথ্যমতে, ২০১২ সালের জুন মাসে সদর উপজেলায় ডিজিটাল (বিডিএস) ভূমি জরিপ শুরু হয়। ২৯৯ মৌজার মধ্যে এ পর্যন্ত ৬৬টি মৌজার জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এসব মৌজার চলমান ডিজিটাল জরিপের চূড়ান্ত কার্যক্রম শেষে সেটেলমেন্ট অফিস থেকে ভূমি অফিসে ডিজিটাল রেকর্ড ভলিয়ম সরবরাহ করা হয়। রেকর্ড অনুযায়ী ভূমি মালিকদের নামে নামজারি, জমা খারিজ ও ভূমি উন্নয়র কর (খাজনা) আদায় চালু ছিল। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর থেকে অনলাইনে নামজারি ভার্সন-২ সফটওয়ার চালু হয়। সেই ভার্সনে পুরোনো অন্যান্য জরিপের নাম উল্লেখ থাকলেও ডিজিটাল (বিডিএস) জরিপ অন্তর্ভুক্তি হয়নি। ফলে জামালপুর পৌরসভার ১১টি ও উপজেলার মেস্টা, ঘোড়াধাপ, কেন্দুয়া ও শরীফপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৫৫টি মৌজার জমির মালিকদের নাম খারিজ কার্যক্রম ও খাজনা নেওয়া বন্ধ রয়েছে ছয় মাস ধরে। এ কারণে সদর উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ জমি বেচাকেনা করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। ভুক্তভোগীরা দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।

জামালপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ৬৬টি মৌজার বিডিএস জরিপ সম্পন্ন করে ছয় মাস আগে ভলিয়ম পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে। ডিসি অফিসের রেকর্ডরুম শাখার মাধ্যমে সেই ভলিয়ম গেছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি জরিপ ভার্সন-২ এর অটোমেশন প্রকল্পে। সূত্র জানায়, জনস্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন জরিপের নাম ও খতিয়ান ভূমি জরিপ ভার্সন-২ এর সফটওয়ারে অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ভূমি জরিপ ভার্সন-২ সফটওয়ারে জরিপের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্টদের নামে ভূমি সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমের আবেদনই অনলাইনে করা যাচ্ছে না। 
নাম খারিজ করতে আসা নবাবপুর মৌজার রোকেয়া বেগমের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার কথা হয় ভূমি অফিসের সামনের গোলঘরে। তিনি জানান, মেয়ের বিয়ে ঠিকঠাক করে রেখেছেন ৯ মাস ধরে। হাতে টাকা না থাকায় ৫ শতাংশ জমি বিক্রির ক্রেতাও ঠিক করেছেন। কিন্তু মাসের পর মাস স্থানীয় ভূমি অফিসে ঘুরেও জমির নাম খারিজ করতে পারছেন না। তাই এসেছিলেন 
উপজেলা ভূমি অফিসে। তাঁর অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা উল্টো তাঁকেই জরিপের কাগজ ঠিক করে আনতে বলেন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, টাকার অভাবে তাঁর মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সদর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার আ. সালাম জানান, বিডিএস জরিপ রিপোর্টে মৌজার খতিয়ান দেওয়া হয়েছে মেনুয়াল পদ্ধতিতে (হাতে লিখে)। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল জরিপের 
খতিয়ান অনলাইন সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের অটোমেশন প্রকল্প থেকে আপডেট না করায় মৌজার নাম খতিয়ান অনলাইন সার্ভারে পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

×