দশমিনায় গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, স্বামী-শ্বশুর আটক
মানচিত্র
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ১৮:২৩
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় লিপি বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নছিমনে (স্থানীয় বাহন) করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিপি বেগমের স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গৃহবধূকে নির্যাতনের পর অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে অভিযুক্তরা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বুধবার উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহাসনাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার লিপি বেগম চর হাসনাবাদ এলাকার শাহজামালের প্রথম স্ত্রী।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চর হাসনাবাদ এলাকার একটি সড়ক দিয়ে একটি নছিমনে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লিপি বেগমকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা। এ সময় লিপি বেগম চিৎকার করলে আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে নছিমনটি থামান। তখন শাহজামাল ও তাঁর বাবা মোসলেম মৃধা তাঁদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং মামলা-হামলার ভয়ভীতি দেখান।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা লিপি বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তাঁরা শাহজামাল ও মোসলেম মৃধাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গৃহবধূ লিপি বেগম জানান, ‘আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই আমার ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। আমার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। আমার ভাসুর পুলিশে চাকরি করেন বলে তাঁর ক্ষমতার ভয়ে আমার বাবার বাড়ির পরিবারের কেউ আমাকে সাহায্যে এগিয়ে আসছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার সকালে আমাকে মারধর করার পর হাত-পা বেঁধে নছিমনে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। আমি বাঁচার জন্য চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে লিপি বেগমের ওপর পারিবারিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা দেখে আসছেন। লিপি বেগমকে উদ্ধারে এগিয়ে এসে আহত হওয়া হেলাল মৃধা বলেন, ‘লিপি বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হচ্ছিল। তাঁকে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি বাধা দিতে গেলে শাহজামাল ও তাঁর বাবা মোসলেম মৃধা আমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে আমি হাসপাতালে ভর্তি হই।।’
অভিযুক্ত লিপি বেগমের স্বামী শাহজামাল বলেন, ‘আমি দুটি বিয়ে করেছি। লিপি আমার প্রথম স্ত্রী। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে তাঁকে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।’
শ্বশুর মোসলেম মৃধাও বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার পুত্রবধূকে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, লিপি বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- গৃহবধূ
- নির্যাতনের অভিযোগ