ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনার ২০০ হাত পতাকার জবাবে ব্রাজিল সমর্থকদের ৩০০ হাতের পতাকা

আর্জেন্টিনার ২০০ হাত পতাকার জবাবে ব্রাজিল সমর্থকদের ৩০০ হাতের পতাকা
×

প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পতাকাগুলো দেখতে আসছেন। ছবি: সমকাল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ১৩:৪০

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে দেশজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যখন উৎসবের আমেজ, তখন কুড়িগ্রামের চিলমারীতেও দেখা গেছে ব্যতিক্রমী উন্মাদনা। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ২০০ হাত দীর্ঘ পতাকার জবাবে ব্রাজিল সমর্থকরা তৈরি করেছেন প্রায় ৩০০ হাত দীর্ঘ বিশালাকার পতাকা।

ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের হাটিথানা গ্রামের আর্জেন্টিনা সমর্থক তরুণরা কয়েকদিন আগে নিজেদের উদ্যোগে প্রায় ২০০ হাত দীর্ঘ একটি পতাকা তৈরি করেন। বিশাল এ পতাকাটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ভিড় জমে।

এরপর পাশের পুটিমারী গ্রামের ব্রাজিল সমর্থকরাও পিছিয়ে থাকেননি। শুক্রবার সকালে তারা প্রায় ৩০০ হাত দীর্ঘ ব্রাজিলের পতাকা তৈরি করে এলাকায় শোভাযাত্রা বের করেন। দুই গ্রামের তরুণদের এমন আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তাদের বিশাল পতাকা নিয়ে মিছিল বের করেন। পরে ব্রাজিল সমর্থকরাও নিজেদের তৈরি পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। একপর্যায়ে দুই গ্রামের সমর্থকরা একই স্থানে মিলিত হয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, স্লোগান ও হাস্যরসের মধ্য দিয়ে যৌথ শোভাযাত্রা করেন।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত এ দুটি বিশাল পতাকা তৈরিতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য, ফুটবলকে কেন্দ্র করে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই তাদের এ উদ্যোগ।

প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পতাকাগুলো দেখতে আসছেন। অনেকে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আর্জেন্টিনা সমর্থক পলাশ হাসান বলেন, 'আমরাই প্রথম এখানে ২০০ হাতের আর্জেন্টিনার পতাকা তৈরি করি। আমাদের দেখাদেখি ব্রাজিল সমর্থকেরাও ৩০০ হাতের পতাকা তৈরি করেছে। তবে এতে আমাদের কোনো কষ্ট নেই। কারণ বিশ্বকাপ এবার আমরাই জিতব।'

ব্রাজিল সমর্থক রাসেল বাবু বলেন, 'এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা আগেই ৩০০ হাতের পতাকা তৈরি করে রেখেছিলাম। সময়ের অভাবে টাঙাতে পারিনি। কুড়িগ্রাম জেলায় এর আগে এত বড় ব্রাজিলের পতাকা কেউ তৈরি করেনি।'

বিশালাকার পতাকা দেখতে আসা রাজু মোস্তাফিজ বলেন, 'ফুটবলপ্রেমীরা ভালোবেসেই পতাকা দুটি তৈরি করেছেন। এখানে দুই দলের সমর্থকেরা পরস্পরের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে একসঙ্গে শোভাযাত্রা করছেন এবং একসঙ্গে খেলা উপভোগ করছেন। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।'

বিশ্বকাপের মূল আসরের ম্যাচ শুরু হলেও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তবে চিলমারীর এই দুই গ্রামে ফুটবল উৎসব শুরু হয়ে গেছে আগেভাগেই। বিশাল এ পতাকাগুলো শুধু প্রিয় দলের প্রতি সমর্থনের প্রকাশ নয়, বরং ফুটবলকে ঘিরে মানুষের আবেগ ও ভালোবাসারও প্রতিফলন।
 

আরও পড়ুন

×