শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই, ১৪ হাজার কোটি টাকার হিসাবও অস্পষ্ট: শিক্ষা অধিকার সংসদ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ১৫:৪১
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার সরকারি অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষা অধিকার সংসদ। তবে বাজেট বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব এবং প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের হিসাব স্পষ্ট না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার সংগঠনের সদস্য সচিব মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সরকার জিডিপির ২ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে। তবে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, এই তিন খাতের বরাদ্দ যোগ করলে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবধান দেখা যায়। ওই অর্থ কোথায় ব্যয় হবে, বাজেটে তা স্পষ্ট করা হয়নি।
শিক্ষা অধিকার সংসদ মনে করে, বরাদ্দ বাড়ানো ইতিবাচক হলেও শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহর-গ্রাম, পাহাড়-সমতল এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষাগত বৈষম্য দূর না হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
সংগঠনটি জানায়, সম্প্রতি দেশের ৩৫০ জন গবেষক ও শিক্ষার্থীর মতামতের ভিত্তিতে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দের পক্ষে মত দেন। এছাড়া ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং ৫০ শতাংশ কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, ডিজিটাল লাইব্রেরি, এডু-আইডি, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষার উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়। তবে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা উন্নয়নের বিষয়ে বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করা হয়।
জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ তরুণ দুর্নীতি ও অপচয়কে এবং ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ সঠিক পরিকল্পনার অভাবকে শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বাজেট পাসের আগে শিক্ষা অধিকার সংসদ তিনটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো - মিড-ডে মিল ও উপবৃত্তির বরাদ্দ সুষমভাবে বণ্টন, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা ও এআই শিক্ষার জন্য জাতীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিল গঠন এবং শিক্ষা বাজেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন সামাজিক অডিট সেল প্রতিষ্ঠা।
সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষায় বিনিয়োগ মানেই জাতির ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। তাই শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাস্তবায়নে সরকারকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখাতে হবে।
