ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ঘুষ ছাড়া সেবা দেন না ভূমি কর্মকর্তা

নড়াইলের সালামাবাদ ইউনিয়ন

ঘুষ ছাড়া সেবা দেন না  ভূমি কর্মকর্তা
×

নড়াইল সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি অফিসে আসেন দেরি করে। জমির নামজারি হোক অথবা খাজনা-নাগরিক পরিষেবা পেতে তাঁকে দিতে হয় বাড়তি টাকা। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দাবি জানানো ভুক্তভোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলতে চাইলে উল্টো সাংবাদিকদের শাসিয়ে দেন নড়াইলের কালিয়ার সালামাবাদ ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ মোল্যা।  

হুমকির সুরে এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে আইন শেখান? আমি ৩০ বছর ধরে চাকরি করি। ওই রকম বহু সাংবাদিক আমার দেখা আছে।’ জবাব দেওয়ার বদলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কোনো কথাই বলব না, যা পারেন তাই করেন। কী জন্য আপনারা আমার অফিসে আইছেন ?’

ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা পদে ছয়-সাত মাস আগে যোগ দিয়েছেন মাহমুদ মোল্যা। সরকারি অফিস সকাল ৯টায় শুরু হলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বেলা সাড়ে ১১-১২টার দিকে অফিসে হাজিরা দেন তিনি। সেবা নিতে আসা মানুষেরা বলছেন, যোগদানের পর এই দপ্তরকে অনিয়মের আঁতুড়ঘরে পরিণত করেছেন মাহমুদ মোল্যা। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া ভূমির নামজারি, খাজনা দেওয়া, নামপত্তন, সংশোধোনীসহ কোনো পরিষেবা দেন না তিনি। চাহিদা মতো টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানিও করেন সেবা নিতে আসা মানুষদের। 

নাম পরিবর্তন করতে আসা মো. মন্নু রহমান (৬৮) বলেন, ‘মাহমুদ মোল্যা এই সালামাবাদ ইউনিয়নে আসার পর থেকে টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে দেয় না। আমার একটা জমির নাম পরিবর্তনে তাঁকে ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। তখন নায়েব বলে ৫০০ টাকা নিলে সচিবের সম্মান থাকে না, ১৫০০ টাকা লাগবে। আমার কাছে টাকা না থাকায় আমি চলে আসি।’ একই গ্রামের নজরুল ইসলাম (৬৩) বলেন, ‘আমি ১০ কাঠা জমির খাজনা দিতে এলে আমার কাছে ৩৮০০ টাকা চায়। পরে আমি চলে আসি। আমার বোনের কাছ থেকে ৪৮০০ টাকা নেয়।’ অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, ‘আমরা মূর্খ মানুষ। আমাদের সঙ্গে নায়েব এ রকম প্রতিনিয়িত করে। আর কিছু বলতে গেলে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।’
সেবা নিতে আসা সালামাবাদ গ্রামের রহিম হাসান বলেন, ‘আমাদের এখানে নায়েব প্রথমদিন থেকেই এসে উল্টাপাল্টা করছে। আমাদের এলাকার লোক খুব ভদ্র, তাই তাকে কিছু বলে না। কাগজপত্র যদি কারও একটু ভুল থাকে তাহলে তো তাঁর কাছ থেকে যা পারে টাকা নেয়।’
কালিয়ার এসিল্যান্ড শ্রাবণী বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতন স্যারদের জানাব। আর যদি আমাকে লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে আরও ভালো হয়। আইনানুগভাবে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 

আরও পড়ুন

×