দক্ষিণ কোরিয়ার ভালোবাসায় পাঁচ কি.মি দীর্ঘ পতাকা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের খাল্লা ও বাহাদুরপুর বিষ্ণুরামপুর গ্রামের রাস্তার পাশে টানানো দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা। ছবি: সমকাল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৩:৩৮ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৩:৩৮
ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পতাকা তৈরি করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের মিন্টু মিয়া। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে তাঁর ব্যয় হয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা। বিশাল এ পতাকা দেখতে প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন।
উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামের মিন্টু মিয়া জীবিকার সন্ধানে ১০ বছর ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায়। গ্রামে ফেরার পরও সেই দেশটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা রয়ে গেছে। শুধু এই বিশ্বকাপেই নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি সব সময়ই অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি।
এলাকায় ফিরে গড়ে তোলেন একটি রেস্তোরাঁ, যেটির নাম রেখেছেন পিস কোরিয়া ক্যাফে। রেস্তোরাঁর সাজসজ্জা ও বিভিন্ন সরঞ্জামেও ব্যবহার করেছেন কোরিয়ার প্রতীক ও লোগো। ফলে রেস্তোরাঁটিও এলাকায় একটি আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
পতাকা টানিয়েই ‘দায়িত্ব’ শেষ করেননি মিন্টু মিয়া। সামাজিক মাধ্যমেও প্রিয় দলের পক্ষে রয়েছেন সরব। মিন্টু মিয়ার এই আয়োজন সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার উদ্যোগকে ব্যক্তিগত ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, কেউ বলছেন এটি দুই দেশের সংস্কৃতির প্রতি পারস্পরিক আগ্রহ ও বন্ধুত্বেরও একটি প্রতীক হতে পারে।
জীবিকার অন্বেষণে মিন্টু মিয়া ১৯৯৮ সালে প্রথম দক্ষিণ কোরিয়া যান। ২০০৩ সালের ফিরে আসেন। আবার ২০০৮ সালে দেশটিতে যান এবং ২০১৩ সালে ফিরে আসেন। ২০২৫ সালের প্রথম দিকে তিনি গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় পিস কোরিয়া ক্যাফে নামের একটি রেস্তোরাঁ স্থাপন করেন।
দীর্ঘ পতাকা তৈরির উদ্যোগ সম্পর্কে মিন্টু মিয়া বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় কাটানো সময় আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দেশটির সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি রয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। দক্ষিণ কোরিয়া আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাই দেশটিকে সম্মান জানাতেই এই পতাকা তৈরি করেছি। এছাড়া আমার রেস্তোরাঁতেও কোরিয়ান ভাবধারা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের কর্মনিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতি তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই ভালোবাসার স্মৃতি ধরে রাখতেই তিনি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন।
মিন্টু মিয়া জানান, এই পতাকা তৈরি করতে নরসিংদী থেকে সাদা কাপড় কিনেছেন আর ঢাকার আশুলিয়ার কামারপাড়ার একটি প্রিন্টিং কারখানা থেকে প্রিন্ট করিয়েছেন। সাদা কাপড়ের ওপরে প্রিন্ট করা বিভিন্ন অংশে ভাগ করা এ পতাকা এলাকায় এনে তিনি স্থানীয় দরজি দিয়ে যুক্ত করেছেন। পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা বানাতে তার মোট খরচ হয়েছে সাত লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের জমি বিক্রি করেছেন পাঁচ লাখ টাকার এবং বাকি দুই লাখ টাকা নিয়েছেন রেস্তোরাঁর আয় থেকে।
পতাকাটি দরিকান্দি ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে শুরু করে বিষ্ণারামপুর পর্যন্ত এবং খাল্লা পশ্চিমপাড়া কবরস্থান থেকে খাল্লা গ্রাম হয়ে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত গেছে। পুরোটাই রাস্তার পাশে টানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, মিন্টু ভাইয়ের এই উদ্যোগ সত্যিই ভিন্নধর্মী। এত বড় কোরিয়ার পতাকা আমরা আগে কখনও দেখিনি। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এটি দেখতে আসছেন। তাঁর রেস্তোরাঁর ভেতরের কোরিয়ান থিমও আমাদের অবাক করে। এটি দেখতে অনেক দূর থেকেও মানুষ আসেন।
পতাকা দেখতে আসা শিক্ষার্থী দিদার আহমেদ জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক লম্বা পতাকা টানানোর কথা শুনে আমি এসেছিলাম। অনেক ভালো লেগেছে। কয়েকটা গ্রামজুড়ে পতাকাটি রাস্তার পাশে লাগানো হয়েছে।
খাল্লা গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, মিন্টু মিয়া দীর্ঘদিন দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলেন, দেশে আসার পর এলাকায় খাবারের হোটেলের ব্যবসা করছেন। তিনি খাল্লা ও বাহাদুরপুর বিষ্ণুরামপুর গ্রামের রাস্তার পাশজুড়ে বড় একটা পতাকা টানিয়েছেন। দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। প্রতিদিন অনেকে দেখতে আসছে এই পতাকা।
- বিষয় :
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া
