ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

চাঁদাবাজির অভিযোগ

বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি, পদ স্থগিত

বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি, পদ স্থগিত
×

প্রতীকী ছবি

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ২১:০৯

বরিশালের বাবুগঞ্জে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বিএনপির দুই নেতা গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখেন এলাকাবাসী। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান তারা। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেন্ডিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার সকালে ওই দুই নেতার দলীয় পদ স্থগিত করে বিএনপি। অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন– চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মেহেদি হাসান জাকির মোল্লা এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেন্ডিতলা এলাকার ড্রেজার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বালু ভরাটের কাজ পান। ওই কাজ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন মেহেদি হাসান জাকির মোল্লা ও আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। সোমবার তারা চাঁদার টাকা আদায়ের জন্য আবার ফোন করলে নজরুল ইসলাম তাদের রেন্ডিতলা আসতে বলেন। রাত ১০টার দিকে তারা রেন্ডিতলা গেলে তাদের আটক করে স্থানীয় জনতা। এ সময় তাদের গণপিটুনি দিয়ে একটি দোকানে আটকে রাখা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে আজ সকালে অভিযুক্ত নেতাদের দলীয় পদ স্থগিত করে বিএনপি। উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় পদ স্থগিত করার বিষয়টি জানানো হয়। 

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন স্বপন বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজিতে জড়ালে ছাড় নেই। অভিযুক্ত দুই নেতার দলীয় সব পদ স্থগিত করাসহ তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে যোগাযোগ না করা এবং দলীয় সব কার্যক্রম থেকে তাদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী ড্রেজার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি বালু ভরাটের কাজ পাওয়ার পর থেকেই বিএনপি নেতা মেহেদি হাসান জাকির মোল্লা ও আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা দলের কথা বলে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। শেষে আমি বাধ্য হয়ে তাদের বলেছিলাম, ভাই আপনারাই বালু ভরাটের কাজ করেন আর আমাকে শুধু আমার ড্রেজার মেশিনের ভাড়াটা দিয়েন। তাতেও রাজি হননি তারা। তাদের কাজ নয়, চাঁদা লাগবে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মেহেদি হাসান জাকির মোল্লা বলেন, আমরা বালুর কাজ চেয়েছিলাম। মালিক নজরুল আমাদের না দিয়ে মিলেমিশে কাজটা করতে বলেছে। নজরুলও সেটা মেনে নিয়ে বলেছে কাজের পর আমাদের নিয়ে বসবেন। আজ সেই বসার কথা বলে এই নাটক সাজিয়ে আমাদের ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় থানার ওসি মিজানুর রহমান রেমু বলেন, থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×