দ্য এজ মালয়েশিয়ার প্রতিবেদন
সিঙ্গাপুর-সাইপ্রাসের পর নজরে মালয়েশিয়ায় এস আলমের হোটেল ব্যবসা
বিশ্বজুড়ে তদন্তের জাল আরও শক্ত হচ্ছে
ছবি: দ্য এজ মালয়েশিয়া
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ২১:০৫
বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও সিঙ্গাপুরের নাগরিক মোহাম্মদ সাইফুল আলমের (এস আলম) বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে ক্রমাগত তদন্ত চলছে। একাধিক দেশে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগে নতুন করে আন্তর্জাতিক নজরদারির মুখে পড়েছেন তিনি। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বিলাসবহুল হোটেলও আলোচনায় এসেছে।
কুয়ালালামপুরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা জালান সুলতান ইসমাইল ও জালান আমপাংয়ের মোড়ে অবস্থিত রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এবং ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার- এই দুইটি হোটেল নিয়েই নতুন করে নজরদারির বিষয়টি সামনে এসেছে। হোটেল দুটি ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে বলে বিভিন্ন করপোরেট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ এসব সম্পদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়নি বা জব্দের আদেশও দেয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান তদন্তের প্রেক্ষাপটে এসব সম্পদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলমের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসহ একাধিক অঞ্চলে বিস্তৃত। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এস আলম তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বেশির ভাগটাই গড়ে তুলেছেন পাচারের অর্থ দিয়ে।
সাইপ্রাসে তার মালিকানাধীন একটি আবাসিক সম্পত্তি ইতোমধ্যে আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের একটি আদালত তাকে ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে ঋণ খেলাপির মামলায় কারাদণ্ডও দিয়েছেন। তবে তিনি ও তার পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিঙ্গাপুরেও তার সম্পদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। বাংলাদেশি তদন্ত সংস্থাগুলোর দাবি, সেখানে এস আলমের ব্যবসায়িক সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের বেশি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগও জব্দের আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত তদন্তের মধ্যেই মালয়েশিয়ার এই দুটি হোটেল ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব সম্পদের সম্ভাব্য মূল্য কয়েকশ মিলিয়ন ডলার হতে পারে।
এদিকে এস আলমের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব পান এস আলম। এখন সিঙ্গাপুরে তার বিদেশি সম্পদের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সেখানে তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মধ্যে রয়েছে- হোটেল, আবাসন, খুচরা বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার।
এদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে পাচার হয়ে থাকতে পারে।
প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর দলটির নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রথম আমন্ত্রণ এসেছিল ভারত থেকে। এরপর মালয়েশিয়া এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আমন্ত্রণ জানান। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার সফরটি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের এই কুয়ালালামপুর সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সফরের দ্বিতীয় দিনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা আছে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ হাইকমিশন গত ২৪ মে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে। এর কয়েক দিন আগে সাইপ্রাসের আদালত এস আলমের সম্পত্তি জব্দ করেছিল। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর মালয়েশিয়া ইতিবাচক সাড়া দেয়। ১ জুন আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেন।
সফরকালে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এতে অভিবাসন, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা আছে। বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরের জন্য এমন একটি দেশকে বেছে নিচ্ছেন, যেখানে সম্ভবত এস আলম গ্রুপের সবচেয়ে প্রকাশ্য আন্তর্জাতিক সম্পদ রয়েছে।
- বিষয় :
- মালয়েশিয়া
- বাংলাদেশ
- এস আলম গ্রুপ
- তদন্ত
