ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

চমেক হাসপাতালে গতবছর এইচআইভি শনাক্ত ৮১, মৃত্যু ১৫

চমেক হাসপাতালে গতবছর এইচআইভি শনাক্ত ৮১, মৃত্যু ১৫
×

ছবি: সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ২১:৪২ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ | ২১:৪৩

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের এআরটি (এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র) সেন্টারে ২০২৫ সালে তিন হাজার ৯৪২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে এইচআইভি পজিটিভ (এইডস আক্রান্ত) শনাক্ত হয় ৮১ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন মারা গেছেন।

বুধবার হাসপাতালে মানবাধিকার ও এইচআইভিবিষয়ক ‘বাংলাদেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে এইচআইভি সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মূল প্রবন্ধে বিস্তারিত তুলে ধরেন চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের প্রধান ডা. জুনায়েদ মাহমুদ খান। এতে রিসোর্স পারসন ও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।

ডা. জুনায়েদ মাহমুদ জানান, ২০২৫ সালে ২১৭ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী চমেক হাসপাতালে এসেছিলেন। তার আগের বছর এসেছিলেন ২১৫ জন। তাঁদের কক্সবাজারের উখিয়া এআরটি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তখন আমরা চিকিৎসা দিয়ে উখিয়া সেন্টারে পাঠাই। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসে না, এমন রোগী বাইরে কতজন ঘোরাফেরা করছে, তা আমাদের জানা নেই। এসব রোগী ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও জানান, গত বছর সারাদেশে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল এক হাজার ৮৯১ জন; যার মধ্যে ২১৭ জন রোহিঙ্গা। ২০২৫ সালে আক্রান্ত ৮১ জন রোগীর মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী। আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছর।

বক্তারা বলেন, এইডস নিয়ে এখনও অনেক মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা আছে। এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদমাধ্যম জনগণের ধারণা ও মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরা এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সাংবাদিকদের দায়িত্ব অপরিসীম। এইচআইভি-সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন—চমেক হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, চর্ম বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মা প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×