ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

অবশেষে সেই হাসপাতালের অনুমোদন

অবশেষে সেই হাসপাতালের অনুমোদন
×

ছবি: সমকাল

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৭

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ আড়াই বছর পর সিলেটের নবনির্মিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালটি অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে। সোমবার এর প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে আইসিউ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও আধুনিক ওয়ার্ডের ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল না থাকায় হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তাঁর সামাজিক মাধ্যমে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে তিনি সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার পাশে ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই জেলা হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। এই স্থানটিতে এক সময় ঐতিহাসিক আবু সিনা ছাত্রাবাস ছিল, যা 

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতেন। ঐতিহ্যবাহী এই পুরাতন স্মৃতিটি সংরক্ষণের দাবিতে সে সময় সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন মহল আন্দোলন করলেও তৎকালীন সরকার ছাত্রাবাসটি ভেঙে সেখানেই হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মূল নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। ১৫ তলা ভিত্তির ওপর হাসপাতালটির প্রথম ধাপের ৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৩ সালে।

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর হাসপাতালটির দায়িত্ব কে নেবে–ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস নাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, তা নিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এক ধরনের প্রশাসনিক টানাপোড়েন চলে। এ নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দেয়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হাসপাতালটির দায়িত্ব সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সোমবার হাসপাতালটি চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে।

সম্প্রতি সিলেটে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে হাসপাতালটি দ্রুত চালু করাসহ ভবিষ্যতে এটিকে এক হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের আশা, অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা এই আধুনিক হাসপাতালটি সব ধরনের সরঞ্জাম ও জনবল সংকটের বাধা পেরিয়ে দ্রুতই সেবামূলক কার্যক্রম শুরু করবে।

আরও পড়ুন

×