ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

শিশু হত্যা মামলায় বাবা ছেলে কারাগারে

শিশু হত্যা মামলায় বাবা ছেলে কারাগারে
×

 লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের মেয়ে শিশু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার রঞ্জিত কুমার (৪২) ও তাঁর ছেলে বিধান চন্দ্রকে (২০) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিনের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে আসামি বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে রঞ্জিত কুমার ও তাঁর ছেলে বিধান চন্দ্রকে আটক করে পুলিশ। পরে নিহত শিশুর বাবার করা হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলায় রঞ্জিত কুমারের স্ত্রী মমতা রানীকেও (৩৭) আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এক মাস আগে ওই শিশুর বড় ভাইয়ের (১৩) সঙ্গে নলকূপের নালার পানি প্রবাহ নিয়ে বিধান চন্দ্রের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই বিরোধের জের ধরে শিশুটিকে হত্যা করেন বিধান। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে মাটিচাপা দেন।

গত মঙ্গলবার আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামের ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সোমবার বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বিধান। এলাকাবাসী বিধান ও তাঁর বাবাকে আটক করে, বাড়িতে ভাঙচুর চালায় ও আগুন দেয়।
পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়। পরে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের গাড়িবহরে হামলা করে বিধান ও তাঁর বাবাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে জনতা। এতে সংঘর্ষ বাধে। ১৮ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িসহ প্রশাসনের ছয়টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আগের দিন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আদিতমারী থানার ওসি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এসব কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধাদানকারী ও মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×