সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে কুমিরের আক্রমণে জেলের মৃত্যু
শ্যালা নদী। ফাইল ছবি
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ১৬:১৯
সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যালা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে সেলিনা বেগম (৫০) নামে এক জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মোংলা উপজেলার জয়মনি লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সুন্দরবনের নদী ও খাল এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও রেণুপোনা আহরণকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত সেলিনা বেগম মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র ও বন বিভাগ জানায়, বুধবার সন্ধ্যার দিকে সেলিনা বেগম অপর দুই নারী জেলের সঙ্গে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে খুচনি জাল টেনে চিংড়ির রেণুপোনা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি কুমির নদীর পানির নিচ থেকে উঠে এসে তাকে আক্রমণ করে। মুহূর্তের মধ্যে কুমিরটি তাকে গভীর পানির দিকে টেনে নিয়ে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা চিৎকার শুরু করেন এবং তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিরের মুখে আটকে থাকা সেলিনাকে বাঁচাতে তার সঙ্গে থাকা অপর নারী জেলেরা সাহসিকতার সঙ্গে বৈঠা দিয়ে কুমিরটিকে আঘাত করেন। একপর্যায়ে কুমিরটি সেলিনার দেহ ছেড়ে দিয়ে নদীর গভীরে সরে যায়। পরে স্থানীয়রা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। রাত ১১টার দিকে পারিবারিকভাবে তাকে দাফন করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস বলেন, শ্যালা নদীতে মাছ ধরার সময় কুমিরের আক্রমণে এক নারী জেলের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন নদী ও খালে কুমিরের বিচরণ বেড়েছে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় নদীর তীরবর্তী এলাকায় মাছ ও চিংড়ির রেণুপোনা সংগ্রহ করতে নামা জেলেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন শত শত জেলে সুন্দরবনঘেঁষা নদী ও খালে মাছ ধরতে গেলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
ঘটনার পর বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন নদী-খালে মাছ ধরা, রেণুপোনা সংগ্রহ এবং নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলে ও বাওয়ালিদের দলবদ্ধভাবে চলাচল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একা না নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যের সন্ধানে কিংবা প্রজনন মৌসুমে এসব কুমির প্রায়ই নদী ও খালের তীরবর্তী এলাকায় চলে আসে।
