গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা
ঢাকায় এক কোম্পানির অধীনে চলবে বাস: সড়কমন্ত্রী
সচিবালয়ে বিএসআরএফ সংলাপে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ১৬:২৯ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ | ১৬:৩৩
ঢাকায় গণপরিবহনের প্রত্যেক রুটের বাস মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট বাস, একই রঙের, নির্দিষ্ট মানের ফিটনেস ও সুযোগসুবিধা রেখে চলাচল করবে। এক কোম্পানির মাধ্যমে প্রত্যেক রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।' বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা ইলেকট্রিক ভেহিকেলকে উৎসাহিত করছি। এই কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। মালিকরা কোন রুটে কোন কোম্পানি করবে, সে ব্যাপারেও তারা কাজ করছে। আমরা চাচ্ছি, বাস ব্যবস্থাপনা ও চলাচলের ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা আনতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রুট। তৃতীয়ত হচ্ছে, ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা নির্দিষ্ট টার্মিনালে থামবে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে উঠবে—এই ব্যবস্থাপনা।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। একটা নগরীতে এ রকম চলে না। রেল আছে, মেট্রোরেল আছে, বাস আছে—এইটাই হলো বেসিক। আর ব্যক্তিগত গাড়িও আছে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি, ব্যক্তিমালিকানায় একই রুটে দুই-চার-দশজন মালিকের বাস বিচ্ছিন্নভাবে চলবে না। যেটা প্রতিযোগিতা হয়, কেউ টার্মিনালে থামে না, টার্মিনালও নির্দিষ্ট না, লোক যেখানে হাত তোলে সেখানে থামিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে আমরা বাস আর চালাব না।
ঢাকার ভেতরে যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাস কাউন্টার ঈদের এক-দেড় মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি কর্পোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ’কে নিয়ে সড়ক মন্ত্রণালয়ে বসেছি। আমরা তিন মাসের জন্য একটা সময় নির্ধারণ করেছিলাম। ঈদের আগে অথবা এই মুহূর্তে, আপনি যেভাবেই বলেন না কেন, এই রাস্তার পাশে যে কাউন্টারগুলো আছে, সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে যাত্রী দুর্ভোগ হবে। কারণ যাত্রীরা সেখানেই যায়, এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস থাকে। সেখানে ওয়ার্কশপ হয়ে গেছে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে সেখানে রঙ করছে, ডেন্ট করছে, ইঞ্জিন ডাউন দিয়ে আবার সেটা রিসেট করছে—এ রকম চলছে। এটা ওখানে চলবে না। আমরা ডিপো করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি, একটা ৩০০ ফিটে। আরেকটা হচ্ছে, কাঁচপুরে। কাঁচপুরে যে ডিপো করছি, সেটা টার্মিনালই হয়ে যাবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল আস্তে আস্তে কাঁচপুরে চলে যাবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার ঠিক বিপরীতে। গাবতলীরটা চলে যাবে হেমায়েতপুরে।’
তিনি বলেন, ‘এ রকমভাবে টার্মিনাল শিফট হবে, কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এখন ডিপো হিসেবে ওখানে ব্যবহার হবে। আর এখান থেকে গাড়ি ছাড়বে। গাড়ি ছাড়ার যে সময় তার আগে আসবে। আসবে এবং গাড়ি এখান থেকে ছেড়ে যাবে। গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হবে, বাসের ওই ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে না। আলাদা ডিপো করে আমরা সেখানে পর্যায়ক্রমে সর্বসাকুল্যে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেব। গাবতলীরটা হেমায়েতপুর, মহাখালীরটা উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি ওখানে ৫০ বিঘা জায়গা এরই মধ্যে অ্যাকোয়ার করতে চলেছি। তার আগ পর্যন্ত ডিপোটা হবে ৩০০ ফিটে। কাঁচপুরে চলে যাবে সায়েদাবাদ টার্মিনাল। ফুলবাড়িয়ারটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে। অর্থাৎ এভাবে শিফট হচ্ছে সেটা বিবেচনায় নিয়ে।’
শেখ রবিউল আলম বলেন, তাদের সময় দেওয়া দরকার। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, বাস টার্মিনালগুলো এখন পর্যন্ত ভালোমানের বাস, এসি বাস অথবা যেখানে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে, একজন যাত্রী স্বাচ্ছন্দবোধ করে, বাসগুলো টার্মিনাল থেকে ছাড়ার উপযুক্ত কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা টার্মিনালগুলোতে নেই। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলীতে যাত্রীরা যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। একটা কারণ হলো পরিবেশগত, আরেকটা যেটাকে বলা হয় ফ্যাসিলিটিজগত।
তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাস টার্মিনালগুলোতে এসব সুবিধা সিটি কর্পোরেশন নিশ্চিত করবে। টয়লেট, ফ্যান যাতে চলে, ওয়েটিংয়ের জন্য বড় রুম—এসব সুবিধা নিশ্চিত করবে। তাদেরও কিছুটা সময় লাগবে। এটা হয়ে গেলে তিন মাস পর তারা ওখানে যাবে। এটার প্রিভিউ মিটিং দুই-তিন দিন আগে হয়েছে মাত্র।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে এই সময়টা আরও এক মাস বাড়িয়ে করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাস মালিক সমিতির লোকেরা বলেছেন, তারা ওই পরিবেশ পেলে, জায়গা পেলে তারা নিজেরাই সেখানে বাস টার্মিনালের অবকাঠামো করে নেবে। এ ব্যাপারে তারা সম্মত হয়েছে। আমি তাদের সহযোগিতা এখানে পেয়েছি। সিটি কর্পোরেশন ডেভেলপ করে দিতে চেয়েছে; মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্ব নিয়েছে তারা পরিবেশটা নিশ্চিত করবে- যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে, সড়কে পর্যাপ্ত লাইট থাকে, সিসি ক্যামেরা থাকে, মানুষ উৎসাহিত হয় ওখানে যেতে।’
বিএসআরএফ-এর সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
