ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সমকালীন প্রসঙ্গ

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকের নিরাপত্তা

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকের নিরাপত্তা
×

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম 

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ১৬:৪১

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সংবাদ নয়। প্রায়ই দেখা যায়, রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষের পর উত্তেজিত স্বজনদের হামলার শিকার হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স বা হাসপাতালের কর্মীরা। সম্প্রতি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এক চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার পর সরকার ঘোষণা দিয়েছে, দেশের প্রতিটি হাসপাতালে সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। কোথাও ‘পাগলা ঘণ্টা’, কোথাও পুলিশ বক্স, কোথাও আবার অস্ত্রধারী আনসার সদস্য বসানোর কথা বলা হচ্ছে।

প্রথম দৃষ্টিতে এটি যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে হতে পারে। কারণ চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। একজন চিকিৎসক যদি প্রতিনিয়ত হামলার ভয়, অপমান বা শারীরিক সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে কাজ করেন, তাহলে চিকিৎসাসেবার মান ভেঙে পড়বে। একজন চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী কখনোই সহিংসতার লক্ষ্য হতে পারেন না। এটি নৈতিকভাবেও অগ্রহণযোগ। আইনগতভাবেও অপরাধ কিন্তু এখানেই একটি গভীর প্রশ্ন আছে। হাসপাতাল কি এমন এক জায়গায় পরিণত হতে যাচ্ছে, যেখানে আস্থা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার জায়গা দখল করবে অস্ত্র, নজরদারি ও ভয়? এই প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়। এটি জনস্বাস্থ্য, রাষ্ট্র-নাগরিক সম্পর্ক, চিকিৎসা নৈতিকতা, সামাজিক আস্থা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন।
কারণ হাসপাতাল শুধু চিকিৎসার জায়গা নয়। এটি একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এখানে মানুষ আসে সবচেয়ে দুর্বল, অসহায় ও ভঙ্গুর অবস্থায়। একজন মা তাঁর সন্তানের জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আসেন। একজন বৃদ্ধ শেষ আশ্রয় হিসেবে হাসপাতালে আসেন। একজন দরিদ্র মানুষ শেষ সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসা নিতে আসে। হাসপাতাল তাই কেবল প্রযুক্তি বা ওষুধের জায়গা নয়, এটি বিশ্বাসের জায়গা।
সেই বিশ্বাস যখন ভেঙে যায়, তখন শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, পুরো সমাজই অস্থির হয়ে ওঠে। তাহলে প্রশ্ন হলো সহিংসতার শেকড় কোথায়? বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহিংসতা কেন বাড়ছে, সেটি বুঝতে হলে আমাদের ঘটনাগুলোর গভীরে যেতে হবে। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় দেখা যায়, সহিংসতার পেছনে আছে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, হতাশা, অবিশ্বাস এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা।
একজন রোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা জরুরি বিভাগে অপেক্ষা করছেন কিন্তু কেউ স্পষ্টভাবে কিছু বলছে না। আইসিইউতে বেড নেই। অক্সিজেন নেই। চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না। পরীক্ষার রিপোর্ট দেরিতে আসছে। রোগীর অবস্থা খারাপ হলেও পরিবারকে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানো হচ্ছে না। তারপর হঠাৎ মৃত্যু। এমন পরিস্থিতিতে শোক, ভয়, ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। অনেক সময় সেটি সহিংসতায় রূপ নেয়। অবশ্যই এটি ন্যায্য নয়। কিন্তু সামাজিকভাবে এটি ব্যাখ্যাতীতও নয়।

বাংলাদেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অধিকাংশ ঘটনাই পরিকল্পিত সন্ত্রাস নয়। বরং তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। কারণ যদি সমস্যাটিকে আমরা কেবল ‘আইনশৃঙ্খলা সমস্যা’ হিসেবে দেখি, তাহলে তার সমাধানও হবে শুধুই পুলিশি। কিন্তু যদি বুঝি এটি আস্থার সংকট, তাহলে সমাধানও হতে হবে সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক।
এখানেই বর্তমান নীতিগত প্রতিক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। রাষ্ট্র এখন সমস্যার মূল কারণ– বিশ্লেষণ না করে তার দৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতরের অব্যবস্থা, দুর্বল যোগাযোগ, জবাবদিহির অভাব এবং সেবাগত বৈষম্য দূর না করে তার চারপাশে অস্ত্রধারী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এটি অনেকটা আগুনের উৎস না নিভিয়ে শুধু ধোঁয়া আটকে রাখার মতো।
হাসপাতালের এই সামরিকীকরণ একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। জনস্বাস্থ্য ও বায়োএথিক্সের ভাষায় একে বলা যায়– ‘সিকিউরিটাইজেশন অব হেলথকেয়ার’ বা স্বাস্থ্যসেবাকে নিরাপত্তা-রাজনীতির অংশে পরিণত করা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মহামারি, যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সহিংসতার সময় এ প্রবণতা দেখা গেছে। কিন্তু সাধারণ নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার দৈনন্দিন কাঠামোতে নিরাপত্তা-রাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রবেশ সবসময়ই উদ্বেগের বিষয়।
কারণ স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তি এক নয়। স্বাস্থ্যসেবার ভিত্তি হলো যত্ন, আস্থা, সমবেদনা ও মানবিক মর্যাদা। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি হলো নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। হাসপাতাল ধীরে ধীরে নিরাপত্তা কাঠামো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে শুরু করলে রোগী আর ‘মানুষ’ হিসেবে থাকে না; সে হয়ে ওঠে ‘সম্ভাব্য ঝুঁকি’। এই মানসিক পরিবর্তন খুব সূক্ষ্ম। কিন্তু ভয়াবহ। একজন দরিদ্র কৃষক, যিনি সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছেন, তিনি যদি দরজায় অস্ত্রধারী প্রহরী, সাইরেন, তল্লাশি এবং কড়া নিয়ন্ত্রণ দেখেন, তাহলে হাসপাতাল তার কাছে আর মানবিক জায়গা মনে হবে না। বরং মনে হবে এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে তিনি সন্দেহভাজন। এতে রোগী-চিকিৎসক সম্পর্ক আরও দূরত্বপূর্ণ হবে। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে স্বাস্থ্য খাতে আগেই বিশাল আস্থাহীনতা আছে, সেখানে এই সামরিকীকরণ সংকট আরও বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ শুধু সাম্প্রতিক নয়। এর পেছনে দীর্ঘ সামাজিক অভিজ্ঞতা আছে। অনেক মানুষ মনে করেন, সরকারি হাসপাতালে তারা সম্মান পান না। দরিদ্র রোগীরা প্রায়ই মনে করেন, তারা ‘দয়া’ পাচ্ছেন, অধিকার নয়। দীর্ঘ লাইন, অস্বচ্ছতা, দালালচক্র, অবহেলা, রূঢ় আচরণ, বেড সংকট, ওষুধ সংকট, পরীক্ষা বাণিজ্য– এসব মিলিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়েছে।
অন্যদিকে চিকিৎসকদেরও বাস্তবতা কঠিন। একজন চিকিৎসককে অমানবিক কর্মঘণ্টা, জনবল সংকট, রাজনৈতিক চাপ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সীমাহীন রোগীর চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। অনেক হাসপাতালে একজন চিকিৎসককে দিনে শত শত রোগী দেখতে হয়। অর্থাৎ এখানে রোগী ও চিকিৎসক পরস্পরের শত্রু নন। দুজনেই একটি দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভুক্তভোগী। রাষ্ট্র যখন কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান না করে কেবল নিরাপত্তা দিয়ে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তখন একটি বিপজ্জনক বিভাজন তৈরি হয়– ‘সুরক্ষিত চিকিৎসক’ বনাম ‘সন্দেহভাজন জনগণ’। এটি গণতান্ত্রিক জনস্বাস্থ্যের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

চিকিৎসায় চারটি মৌলিক নীতি আছে। সেগুলো হলো স্বায়ত্তশাসন বা রোগীর স্বাধীনতা, কল্যাণসাধন, ক্ষতি না করা এবং ন্যায়পরায়ণতা বা সমতা। হাসপাতালের নিরাপত্তা নীতি এ চারটি নীতির সঙ্গেই সম্পর্কিত। প্রথমত, রোগীর নিজস্ব চিকিৎসার বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার। চিকিৎসকের কাজ হলো রোগীকে সব তথ্য জানানো। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবেন রোগী নিজে। রোগী যদি মনে করেন তার কথা শোনা হচ্ছে না, অভিযোগ জানানোর জায়গা নেই কিংবা প্রশ্ন করলেই নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখা হবে, তাহলে তার স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয়ত, রোগীর সর্বোচ্চ মঙ্গল বা কল্যাণ নিশ্চিত করা। চিকিৎসকের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন রোগীর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, সেই চেষ্টা করা। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে যদি হাসপাতালের পরিবেশ আতঙ্কপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে রোগীর মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তৃতীয়ত, রোগীর কোনো ক্ষতি বা অনিষ্ট না করা। অস্ত্রধারী নিরাপত্তা কাঠামো কখনও কখনও পরিস্থিতি আরও উত্তেজিতও করতে পারে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে শোকাহত বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়া পরিবারের সঙ্গে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নতুন সহিংসতার জন্ম দিতে পারে। চতুর্থত, সব রোগীকে সমান ও ন্যায্য চিকিৎসা প্রদান করা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা আর্থিক অবস্থা বিবেচনা না করে সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা। প্রশ্ন হলো, হাসপাতালের নিরাপত্তা কাদের জন্য? শুধু চিকিৎসকদের? নাকি রোগী, নার্স, ইন্টার্ন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নারী কর্মী এবং রোগীর স্বজনদের জন্যও?
বাংলাদেশে হাসপাতালের ভেতরে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের যৌন হয়রানি, রোগীদের নিরাপত্তাহীনতা, নবজাতক চুরি, এমনকি ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগও এসেছে। অথচ এসব নিয়ে একই মাত্রার নীতিগত জরুরি প্রতিক্রিয়া খুব কম দেখা যায়। এতে বোঝা যায়, আমাদের নিরাপত্তা আলোচনা আসলে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নও। 
কিছু হাসপাতালে ‘পাগলা ঘণ্টা’ চালুর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো হামলার পরিস্থিতি তৈরি হলে ঘণ্টা বাজবে, নিরাপত্তাকর্মীরা ছুটে আসবেন। এটি শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এর একটি প্রতীকী অর্থও আছে। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়, প্রতিটি প্রতীক মানুষের আচরণ ও মানসিকতা তৈরি করে। ‘পাগলা ঘণ্টা’ শব্দটিই আসলে রোগী বা স্বজনদের সম্ভাব্য উন্মত্ত ভিড় হিসেবে কল্পনা করছে। অর্থাৎ নাগরিককে আগে থেকেই ‘ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ ধরনের ভাষা স্বাস্থ্যসেবার মানবিক সংস্কৃতিকে দুর্বল করে।
জনস্বাস্থ্য যোগাযোগে ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি হাসপাতাল বারবার ‘নিরাপত্তা হুমকি, ‘নিয়ন্ত্রণ’, ‘দমন’ বা ‘আক্রমণ প্রতিরোধ’ ভাষায় কথা বলে, তাহলে চিকিৎসা পরিবেশ ধীরে ধীরে সহানুভূতির বদলে সংঘাতমুখী হয়ে উঠবে। 
তাহলে সমাধান কী? সমাধান অবশ্যই নিরাপত্তাহীনতা উপেক্ষা করা নয়। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা অপরিহার্য। কিন্তু সেটি হতে হবে মানবিক, অংশগ্রহণমূলক এবং আস্থাভিত্তিক। প্রথমত, প্রতিটি হাসপাতালে সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোয় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাই প্রায় নেই। একজন রোগীর অবস্থা কী, কেন দেরি হচ্ছে, কী ঝুঁকি আছে, মৃত্যুর সম্ভাবনা কতটুকু– এসব কেউ পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেন না। ফলে গুজব, ভয় এবং ক্ষোভ বাড়ে। প্রতিটি বড় হাসপাতালে রোগী ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের জন্য প্রশিক্ষিত যোগাযোগ অফিসার থাকা উচিত।

দ্বিতীয়ত, হাসপাতালে অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রশমন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। রোগীর পরিবার যদি মনে করে অভিযোগ করার কোনো পথ নেই, তখন ক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। দ্রুত তদন্ত, স্বাধীন মেডিকেল রিভিউ বোর্ড এবং স্বচ্ছ জবাবদিহি জরুরি।

তৃতীয়ত, চিকিৎসকদের জন্য সমবেদনা ও কার্যকর যোগাযোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা দরকার। চিকিৎসা শুধু ক্লিনিক্যাল দক্ষতা নয়; এটি চিকিৎসা সেবারই অংশ। রোগীর সঙ্গে আচরণ, মৃত্যুসংবাদ দেওয়া, দরিদ্র মানুষের সঙ্গে কথা বলা, শোক ব্যবস্থাপনা– এসবও চিকিৎসা পেশার অংশ।
চতুর্থত, হাসপাতাল নিরাপত্তাকে সামাজিক সম্পৃক্তি মডেলের মধ্যে আনতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, রোগী কল্যাণ সমিতি, ধর্মীয় নেতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে অংশগ্রহণমূলক পরিচলন ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা দরকার।  
পঞ্চমত, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নেই। জনবল সংকট, আইসিইউ সংকট, বেড সংকট, চিকিৎসক-রোগী অনুপাতের বৈষম্য ঠিক না করলে সহিংসতার সামাজিক ভিত্তি থেকেই যাবে।
তাহলে আমরা কেমন হাসপাতাল চাই? এ প্রশ্নটি রাজনৈতিকও। আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে প্রতিটি সামাজিক সংকটের উত্তর হবে অস্ত্র ও নজরদারি? নাকি এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে মানুষের আস্থা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করা হবে?
হাসপাতাল কোনো কারাগার নয়। এটি মানুষের দুর্বলতার মুহূর্তে শেষ আশ্রয়। সেখানে যদি মানুষ ভয় পায়, অপমানিত বোধ করে কিংবা নিজেকে ‘সন্দেহভাজন’ মনে করে, তাহলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা কখনোই মানবিক হতে পারবে না। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু নিরাপত্তা যদি আস্থার জায়গা দখল করে নেয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত কেউই নিরাপদ থাকবে না– না চিকিৎসক, না রোগী, না সমাজ। কারণ একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত শুধু ওষুধ বা অস্ত্র দিয়ে টিকে থাকে না। এটি টিকে থাকে মানুষের বিশ্বাসের ওপর। বিশ্বাস হারিয়ে গেলে কোনো সশস্ত্র প্রহরীই হাসপাতালকে সত্যিকারের নিরাপদ করতে পারে না।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম: জনস্বাস্থ্য ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র লেকচারার, মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)
 

আরও পড়ুন

×