ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার যন্ত্রণা

ত্বরিত পদক্ষেপ কাম্য

ত্বরিত পদক্ষেপ কাম্য
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ লইয়া গ্রাহকরা যেই দুর্ভোগে পড়িয়াছেন, উহা দুর্ভাগ্যজনক। রিচার্জের সময় টোকেনের সুদীর্ঘ সংখ্যা সত্যিকার অর্থেই বিব্রতকর। মঙ্গলবার প্রকাশিত সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিটারে টাকা রিচার্জের সময় ২০ ডিজিটের পরিবর্তে ২০০ হইতে ৩০০ অঙ্কের টোকেন নম্বর আসিতেছে। এত বৃহৎ সংখ্যা প্রবেশ করাইতে গিয়া বারংবার ভুল হওয়ায় মিটার লক হইয়া বিদ্যুৎ সংযোগই বন্ধ হইয়া যায়। উপরন্তু, সমস্যা সমাধানের জন্য ছুটিতে হইতেছে বিদ্যুৎ অফিসে। অনেক গ্রাহককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা; কোথাও কোথাও সম্পূর্ণ দিবস বিদ্যুৎহীন থাকিতে হইতেছে। শুধু উহাই নহে, রিচার্জের পর পূর্বে জমাকৃত টাকা যোগ না হওয়া; বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ কর্তন এবং সার্ভার জটিলতার অভিযোগও করিতেছেন গ্রাহক। জানা গিয়াছে, সমগ্র দেশে অর্ধকোটির অধিক গ্রাহক এহেন ভোগান্তিতে পড়িয়াছেন। যেইখানে ডিজিটাল মিটার মানুষের সুবিধার্থে প্রবর্তন করা হইয়াছে, সেইখানে এহেন অসুবিধায় পতিত হওয়া হতাশাজনক।

বিস্ময়কর, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহককে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ও নির্ধারিত কিছু চার্জ পরিশোধ করিতে হয়। কিন্তু গ্রাহকগণ অবগত নন, কী কারণে কত টাকা কর্তন করা হইতেছে। অথচ বিদ্যুৎ খাতে সহজ ও আধুনিক সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যেই দেশে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হইয়াছিল। প্রত্যাশা ছিল, উহার মাধ্যমে গ্রাহকগণ নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করিবেন; বিল বকেয়ার ঝুঁকি হ্রাস পাইবে এবং সেবার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাইবে। বাস্তবে ঘটিতেছে বিপরীত। এমনিতেই বিদ্যুৎপ্রাপ্তি লইয়া প্রশ্ন বিস্তর। বিশেষত শহরাঞ্চলের বাহিরের মানুষ লোডশেডিংয়ে অস্থির। বোঝার উপর শাকের আঁটির মতো প্রিপেইড মিটার যন্ত্রণা তাই অসহনীয় হইবারই কথা। যদিও অধিকাংশ গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের বাহিরে; পাঁচ কোটি গ্রাহকের মধ্যে ৫৫ লক্ষ গ্রাহক এই অতিরিক্ত যন্ত্রণা পোহাইতেছেন, যাহাদের বিকল্প কোনো আয়োজন নাই। রিচার্জ প্রক্রিয়ায় সামান্য ত্রুটি বা সার্ভার বিপর্যয়ও সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রভাব ফেলে। ফলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, সাধারণ পরিবার– সবাই ক্ষতির মুখে পড়ে।

বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলির দাবি, সাম্প্রতিক ট্যারিফ বা মূল্যহার পরিবর্তনের কারণে এহেন পরিস্থিতির উদ্ভব হইয়াছে। তাহাদের ব্যাখ্যা হইল, নূতন মূল্যহার কার্যকর হইবার পর বিভিন্ন স্ল্যাবের তথ্য মিটারে হালনাগাদ করিতে হয়। প্রতিটি স্ল্যাবের জন্য পৃথক ২০ ডিজিটের তথ্য পাঠানো হয়। সব একত্রিত হইয়া ২০০ বা ততোধিক ডিজিটের টোকেনের রূপ পরিগ্রহ করে। কিন্তু এই ব্যাখ্যায় ভুক্তভোগীদের স্বস্তি মিলিবে না। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্তব্য ছিল সম্ভাব্য জটিলতার বিষয়টি পূর্বেই গ্রাহককে অবহিত করা। প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের মোবাইল নম্বরে এই বিষয়ক বার্তা প্রেরণ করিলে গ্রাহক আশ্বস্ত হইতেন। সর্বোপরি, বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলির উচিত দ্রুত সমস্যার কারণ চিহ্নিত করিয়া কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা। সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকল্প ব্যাকআপ ব্যবস্থা প্রবর্তন, গ্রাহক সহায়তা কেন্দ্রকে অধিক সক্রিয় করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিকল্পে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তৎসহিত রিচার্জ সংক্রান্ত যেই কোনো কারিগরি সমস্যার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা সংরক্ষণের বিষয়ও গুরুত্বের সহিত বিবেচ্য। ডিজিটাল এই যুগে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা রহিত করা যাইবে না। তবে সেবার সাফল্য নির্ভর করে উহার নিরবচ্ছিন্নতা ও গ্রাহকবান্ধব কার্যক্রমের উপর। প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা যদি বারংবার ভোগান্তির কারণ হয়, তবে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হইবে। বিদ্যুৎ বিভাগকে ইহার সহিত গ্রাহকদের বিদ্যুতের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান বিষয়েও আন্তরিক হইতে হইবে। 

আরও পড়ুন

×