ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার নামে ওমানপ্রবাসীর টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার নামে ওমানপ্রবাসীর টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২
×

রাকিবুল হোসেন ও রনি ইসলাম

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ১৩:১১

অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার নামে এক ওমানপ্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। অভিযোগ পাওয়ার পর চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

আজ বৃহস্পতিবার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবুল হোসেন ও রনি ইসলাম ওরফে খাজা মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ছয়টি মোবাইল ফোন ও ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগী একজন ওমানপ্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার সঙ্গে কথিত অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’র পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে মোবাইল ফোন, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও অভিবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন প্রসেসিং, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসা সংক্রান্ত খরচের কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ধাপে ধাপে এক লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা পাঠান। পরে আরও অর্থ নেওয়ার জন্য একটি ব্যাংক হিসাবও দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা না করে অভিযুক্তরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীর ভাগনে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেপ্তার রনি ইসলাম নিজেকে ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ নামে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসনসংক্রান্ত আকর্ষণীয় ভিডিও প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমো অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করা হতো।

সিআইডির ভাষ্য, প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে গ্রহণ ও স্থানান্তরে সহযোগিতা করতেন রাকিবুল হোসেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন

×