রপ্তানির বার্তা নিয়ে শুরু হলো ফলমেলা
রংপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গতকাল বৃহস্পতিবার ফলমেলায় অতিথিরা সমকাল
রংপুর অফিস ও নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৯:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁয় এবার সাড়ে ৪ লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টরে আমের চাষ হয়েছে।
বিপুল এই উৎপাদনকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে এবং ‘নওগাঁর আম’কে একটি স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে জেলায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় ফল ও আম মেলা’। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
আগামীকাল ২০ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় সরকারি ও বেসরকারি ১৬টি স্টলে ৭৭ প্রজাতির আমসহ শতাধিক দেশি-বিদেশি ফল প্রদর্শন করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে আম্রপালি, ফজলি, ল্যাংড়া, হিমসাগর, আশ্বিনা, গোপালভোগ, কাটিমন, বারোমাসি ও ব্যানানা ম্যাংগো। পাশাপাশি রয়েছে নিরাপদ ফল উৎপাদন প্রযুক্তি, জৈব সার, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিভিন্ন ফলের চারা।
উদ্বোধনের পর ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা
সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মনির আলী আকন্দ, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রেজাউল করিম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মেহেদুল
ইসলাম, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা, জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আম উৎপাদনের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানিতে। নওগাঁর আমকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জাপান, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে সীমিত পরিসরে নওগাঁর আম রপ্তানি হচ্ছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় তা এখনও অনেক কম। আন্তর্জাতিক বাজারে স্থায়ী অবস্থান গড়তে নিরাপদ উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, ট্রেসেবিলিটি ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে।।
রংপুরে ফলমেলা ও ‘কংগ্রেস পার্টনার’ প্রশিক্ষণ
রংপুরে তিন দিনব্যাপী ফলমেলা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবী ও কৃষকদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী ‘কংগ্রেস পার্টনার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ফলমেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন। উদ্বোধনের পর তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে আয়োজনের প্রশংসা করেন। আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত এ মেলা চলবে।
পরে সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উদ্যোগে একই স্থানে আয়োজিত ‘কংগ্রেস পার্টনার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন
জেলা প্রশাসক।
রংপুর কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিন বিনতে আজিজ, পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার অশোক কুমার রায়, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাজহারুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল হোসেন এবং প্রকল্পের উপকারভোগী কৃষক সাব্বির হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রশিদা ইয়াছমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, উত্তম কৃষিচর্চা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক কৃষি-জ্ঞান সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা অন্য কৃষকদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক, রাসায়নিক সার ও হরমোনের ব্যবহার ফসলের গুণগত মান ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর; পাশাপাশি মাটির উর্বরতাও নষ্ট করে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিন বিনতে আজিজ জানান, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফল চাষের সম্প্রসারণ এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফলের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল, উন্নতমানের ফলদ গাছের চারা এবং কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ফলমেলায় সাতটি এবং ‘কংগ্রেস পার্টনার’ কর্মসূচিতে পাঁচটি স্টল অংশ নিয়েছে।
- বিষয় :
- রপ্তানি