ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

দু’দফায় সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ

বর্ষায় প্লাবিত হবে ৬ হাজার একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি

দু’দফায় সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ
×

বেড়িবাঁধের জন্য জমি থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে মাটি। গত মঙ্গলবার লোহাগড়ার ধলইতলা গ্রামে সমকাল

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষায় মধুমতী নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। দুই দফায় সময় বাড়িয়েও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি। ২০২৫ সালের জুনে মেয়াদ শেষ হলেও কাজের অগ্রগতি সামান্যই। একনেকে পাস হওয়ার সাত বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মধুমতী নদীর ভাঙনে পাকা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। বর্ষায় নদীর পানি ঢুকে প্রায় ছয় হাজার একর জমি প্লাবিত হয়। শুধু ফসলি জমি নয়, প্রায় ১৫টি গ্রামের ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। এ অবস্থায় ২০১৯ সালে কোটাকোল থেকে ঘাঘার শেষ সীমানা পর্যন্ত (ধলইতলা) ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার।

এসএইউবিজেবি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ পায়। চুক্তিমূল্য ধরা হয় ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। স্থানীয়দের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের জুনে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই কম। কিছু অংশে খনন ছাড়া দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এছাড়া প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১৬১ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন। ধলইতলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কুটি গাজী বলেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে জমি থেকে মাটি কাটতে দেওয়া হবে না। সরকার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জমিতে লালপতাকা টানিয়ে মাটি কাটতে চায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মিলন আলী বলেন, ‘বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে আমরা খুবই বিপাকে আছি। এখনও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পুরো জমি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে বন্ধ করতে হয়। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দেবেন না। এ অবস্থায় কিছু অংশে কাজ করা হচ্ছে, তবে পুরো জমি বুঝে পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’
নড়াইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, প্রকল্পটি ২০১৯ সালের হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। ২০২৩ সালে শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারছেন না। লালপতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করা হলেও তা তুলে ফেলেছেন স্থানীয় লোকজন। তবে সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জমি চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তকে যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বাকিদের আবেদন ও কাগজ যাচাই করে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×