পিটিয়ে বেতারের সাবেক প্রধান ক্বারির পা ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা, বিচার চেয়ে ছেলের পোস্ট
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান ক্বারি আবু রায়হান।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৭:১২ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৭:৩৮
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান ক্বারি আবু রায়হানকে (৬৪) পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দুই দিন পর ভুক্তভোগীর প্রবাসী ছেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার চেয়ে পোস্ট দেন। এর পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের কালিবাজাইল গ্রামে। আবু রায়হান ঢাকার লালবাগের জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়ার সাবেক শিক্ষক এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান ক্বারি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আবু রায়হানের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই স্থানীয় মক্তবের শিক্ষক মোশারফ হোসেন (৪২), মাহমুদুর রহমান (৫০) ও তাসলিম আহমেদের (৪৬) বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত রোববার সীমানায় বেড়া দেওয়ার সময় বিবাদীরা বাধা দিলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আবু রায়হানকে মারধর করা হয়; এতে তাঁর বাঁ ঊরুর হাড় ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার দুই দিন পার হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর প্রবাসী ছেলে ইফতেখার জামিল ফেসবুক পোস্টে বিচারের দাবি জানান। তিনি পোস্টে অভিযোগ করেন, ‘আমার বাবার ওপর গ্রামের গুন্ডারা আক্রমণ করেছে। তাঁর রানের হাড্ডি ভেঙে ফেলেছে। হামলাকারীরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের মধ্যে একজন রুকনও রয়েছেন।’
ইফতেখার আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আহত আবু রায়হানের অপর ছেলে কাউসার জামিল বাদী হয়ে মোশারফ হোসেন, মাহমুদুর রহমান ও তাসলিম আহমেদকে আসামি করে ফুলবাড়ীয়া থানায় মামলা করেন। ওই রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত মোশারফ হোসেনকে আটক করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল সিদ্দিকী জানান, ‘ফেসবুকে কে কী লিখল, সেটা আমাদের দেখার সময় নেই। বাদীপক্ষ প্রথমে যে অভিযোগ দিয়েছিল, তার লেখার মধ্যে অনেক ভুল ছিল। সেটিতে আসলে মামলা নেওয়ার মতো কোনো গ্রাউন্ড ছিল না। পরে আবার সঠিকভাবে অভিযোগ দেওয়ার সাথে সাথেই মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলা নেওয়ার পর পরই আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি দুই আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আশরাফুল করিম জানান, অপরাধী যারাই হোক না কেন, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কে কোন দল করে, এটা দেখার বিষয় নয়।
বিষয়টি নিয়ে জামায়াত নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুল হাসান জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরই মূলত বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ইফতেখার জামিলের সঙ্গে কথা বলে পুরো ঘটনাটি শোনেন এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেন। ভুক্তভোগীর ছেলের করা ফেসবুক পোস্টের তথ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টিতে কোনো গাফিলতি করিনি; বরং ঘটনার কথা জানতে পেরেই আমি প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।’
জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
- বিষয় :
- ময়মনসিংহ
- পিটিয়ে গুরুতর আহত
- আটক
