ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বিএনপির এমপিকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

বিএনপির এমপিকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
×

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। ফাইল ছবি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৮:১৬

কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ এনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় গত শুক্রবার এ মামলা হলেও আজ বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলার অপর আসামি হলেন নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর (উলুরচর) গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে কাদের মিয়াজী (৫০)। 

মামলার বাদী জালাল আহমেদ (খোকন তালুকদার) নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের শামবক্সী গ্রামের আ. ছাত্তারের ছেলে। আজ বিকেলে সমকালকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে , গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি এবং ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে বিদ্রূপ, কটূক্তি এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। একটি ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাঁড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডিতে তাঁর ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। মামলায় মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও অপর আসামি কাদের মিয়াজীর বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপি মনির চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে মামলার বাদী জালাল আহমেদ নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করলেও স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ জানান, জালাল আহমেদ খোকন যুবদলের বা বিএনপির কেউ নন। তিনি মূলত যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার বাদী জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেই মামলা করেছি। আমি যে যুবদল কমিটিতে আছি, সেটি এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর ঘোষিত কমিটি, কেন্দ্রীয় যুবদলের ঘোষিত কমিটি নয়।’

মামলাটিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম.এম. বিলাল হোসাইন বলেন, ‘মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মিথ্যা মামলাটি আমরা আইনিভাবেই মোকাবিলা করব।’

মামলা হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি আজই সাংবাদিকদের মাধ্যমে মামলার খবর জানতে পেরেছেন। অভিযোগে কি আছে তা এখনও জানেন না এমপি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি এখনও সংসদের বাইরে কথা বলিনি। তার মানে এই নয়, আমি কথা বলব না। মামলা করলে আনুষ্ঠানিকভাবেই করতাম। কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করলে তো আমাকে জানাতে পারত। আমাকে না জানিয়ে মামলা হলো কেমনে?’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ কে মামলার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেছি। আমি মামলা করলে ঢাকায় করব।’

আজ বিকেলে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম সমকালকে জানান, ‘একটি মামলা রেকর্ড করার আগে সব বিধান মেনে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বাদীর অভিযোগ রেকর্ড (এফআইআর) করা হয়েছে। এর বেশি মন্তব্য করার সুযোগ নেই। মামলার অভিযোগের তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন

×