সিরাজগঞ্জে ডা. বাকি হত্যা মামলায় ১৫ বছর পর দুই আসামির যাবজ্জীবন
রায় ঘোষণা শেষে আসামি আনোয়ার হোসেন কিরণকে পুলিশি পাহারায় আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৮:৫০
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাকি মির্জা হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার জানপুর মহল্লার জাকারিয়া মাসুদ (৪৩) এবং সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের খাগা গ্রামের আনোয়ার হোসেন কিরণ (৪৫)।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহান শাহ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলার অন্য আসামি ডা. আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। তিনি নিজের সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন আবেদন করায় হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ওই আবেদন নিষ্পত্তি হলে তার বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আনোয়ার হোসেন কিরণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকারিয়া মাসুদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নারীঘটিত ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট চত্বরে সরকারি ব্যাচেলর কোয়ার্টারের নিজ কক্ষে ডা. বাকি মির্জাকে হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পেশাগত কোনো বিরোধ নয়, বরং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
বিচার চলাকালে মামলার অন্যতম আসামি রুহুল আমীন বাবু মারা গেলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কার্যক্রমের অবসান ঘটে। অপরদিকে, ডা. আবদুল লতিফের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত থাকায় তার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
- বিষয় :
- সিরাজগঞ্জ
- হত্যা মামলা
- আদালত
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
