ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইউরোপে দাবদাহ

ফ্রান্সে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, যুক্তরাজ্যে স্কুল বন্ধ, রেল ভ্রমণে সতর্কতা

ফ্রান্সে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, যুক্তরাজ্যে স্কুল বন্ধ, রেল ভ্রমণে সতর্কতা
×

ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের চিত্র। গ্রাফিকস: এএফপি

বিবিসি ও এএফপি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৯:২৩ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৯:৩৬

তীব্র দাবদাহের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যেই বুধবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।  

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রিটানি অঞ্চলের প্রায় ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বুধবার রাতের আগে সেখানে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। 

ফ্রান্সের তুলুজ শহরের একটি ডিজিটাল বোর্ডে তাপমাত্রা প্রদর্শন হয়। বুধবার ওত-গারোন অঞ্চলে। ছবি: এএফপি

আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা মেতেও ফ্রান্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অর্ধেকেরও বেশি অংশে এখনো রেড অ্যালার্ট জারি আছে। স্থানীয় সময় বুধবার দিনের শেষ দিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ল্যান্ডেস অঞ্চলের পিসোস গ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই দাবদাহ বুধবার পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। নেদারল্যান্ডসের কিছু অংশে বিপজ্জনক আবহাওয়ার কারণে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। 

মুখে বরফ শীতল পানির স্পর্শ দেন এক তরুণী। বুধবার ভ্যাটিকান সিটিতে।

যুক্তরাজ্যের কিছু অংশে রেড অ্যালার্ট জারি রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এমন অবস্থায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলেসের অন্তত ১ হাজার স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের ৫৭৮টির অধিকাংশই দক্ষিণাঞ্চলের। 

হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন দুই নারী। বুধবার যুক্তরাজ্যের ইয়র্কে। ছবি: এএফপি

এদিকে যুক্তরাজ্যের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রেড অ্যালার্ট জারিকৃত অঞ্চলে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রেল অপারেটর তাদের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে। যাত্রীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় অল্প সময়ের নোটিশে যাত্রা বাতিলও করা হতে পারে।

রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করেন এক পথচারী। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। ছবি: এএফপি

ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)-এর চেয়ারম্যান জিম স্কেয়া বলেন, চলতি সপ্তাহে ইউরোপে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আইপিসিসির দীর্ঘদিনের পূর্বাভাসের একেবারে শেষ সীমায় আছে। বর্তমানে যে তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে তা আগের পূর্বাভাসের গণ্ডি পার হয়ে গেছে।

সম্ভাব্য দাবানল মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবে সড়কের ধারের ঘাস কাটা হচ্ছে। মঙ্গলবার স্পেনে। ছবি: এএফপি

এএফপির হিসাব অনুযায়ী, বুধবার ইউরোপের অন্তত ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা অনুভব করছেন। তাদের বেশিরভাগই ফ্রান্স ও স্পেনের বাসিন্দা।

পর্যটকের কাছে খাবার পানি বিক্রি করেন এক ব্যক্তি। বুধবার রোমে। ছবি: এএফপি

জিম স্কেয়া বলেন, গত কয়েকদিনের মতো ভবিষ্যতেও ইউরোপের বাসিন্দাদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বের গড় তাপমাত্রা যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে বছরের সবচেয়ে গরম দিনটির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি উত্তপ্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন

×