সেনাসদস্য হত্যা: পাকিস্তানে মানবাধিকার কর্মীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মাহরাং বালোচ
বিবিসি
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৮:১৭
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে গুমের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে প্রচার চালানো শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার কর্মী এবং ‘বেলুচিস্তান ঐক্য কমিটি’ (বিওয়াইসি)-এর নেত্রী মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের একটি সমাবেশে আধাসামরিক বাহিনীর এক সেনাকে হত্যার দায়ে তাকে এবং তার সহকর্মী সিবগাতুল্লাহকে এই সাজা দেওয়া হয়। কোয়েটার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে গওয়াদরে এক বিক্ষোভে মাহরাং বালোচের ‘অত্যন্ত উসকানিমূলক বক্তব্যের’ কারণে ৩০-৪০ জনের একটি উন্মত্ত জনতা লাঠি ও পাথর দিয়ে সেনাসদস্য শাব্বির আহমেদকে পিটিয়ে হত্যা করে। আদালত এই হত্যার অভিন্ন উদ্দেশ্যে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং নিহতের পরিবারকে ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবী দলসহ এই বিচারপ্রক্রিয়া বর্জন করা ওই দুই অধিকারকর্মী তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কোয়েটার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত জানিয়েছে, বালোচ এবং সিবগাতুল্লাহ বেলুচিস্তান ঐক্য কমিটির অবৈধ সমাবেশে সক্রিয় ছিলেন এবং ওই কর্মকর্তাকে হত্যার ক্ষেত্রে তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিভিন্ন অভিযোগে বালোচ এবং সিবগাতুল্লাহ ইতিমধ্যেই দুই বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান (পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন) এই রায়ের তাৎক্ষণিক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, রাষ্ট্র মৌলিক অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে চরমপন্থার মতোই বিবেচনা করার নীতি অব্যাহত রেখেছে; যার ফলে ‘একপেশে এবং পক্ষপাতদুষ্ট’ প্রশাসনিক ও বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
মাহরাং বালোচের বোন আইনজীবী নাদিয়া বালোচ এবং আইনি দল অভিযোগ করেছে যে, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ভিডিও লিংকের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের সঠিকভাবে জেরা করতে না পারায় তারা এই রায়কে ‘পরিচয়হীন আদালত’-এর নির্দেশ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও একে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে সমালোচনা করেছেন।
তবে বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র দাবি করেছেন, তাদের কাছে ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে এবং মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক বাবাকে তুলে নেওয়া এবং ২০১১ সালে নির্যাতনের চিহ্নসহ তার মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকে মাহরাং মানবাধিকার রক্ষায় প্রচার চালিয়ে আসছেন। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ২০২৪ সালের বিবিসির ১০০ জন প্রভাবশালী নারীর তালিকাতেও স্থান পান তিনি।
- বিষয় :
- পাকিস্তান
- মানবাধিকার কর্মী
