ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে: দুর্যোগমন্ত্রী

নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে: দুর্যোগমন্ত্রী
×

ছবি- সমকাল

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৮:২২ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৮:৫৭

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, দেশের অনেক নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে। মরা নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে এনে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বুধবার বিকেলে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চন্দ্রখালী খাল খনন প্রকল্প পরিদর্শন এবং সাটুরিয়া বাজার সংলগ্ন খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গাজীখালী নদীর বর্তমান অবস্থা দেখে মন্ত্রী বলেন, যেখানে নদীই শুকিয়ে গেছে, সেখানে খালে পানি থাকবে কীভাবে? নদী ও খালগুলোর নাব্যতা পুনরুদ্ধার করতে না পারলে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক স্থানে প্রকল্প বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ৫০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, কিছু অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যেতে পারে। এ অবস্থায় আংশিক কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে এবং বাকিটা শ্রমিকদের দিয়ে করানো হচ্ছে, যাতে দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত হয়।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যাতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করে কৃষিকে সমৃদ্ধ করা যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার এ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে অনেক খাল ভরাট ও দখল হয়ে গেছে। এখন সেসব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতেও নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে মানিকগঞ্জে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং বর্ষাকালে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং বর্ষা মৌসুমে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তালগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ সময় মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×