ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকা যাওয়ার আগের দিনই নিভে গেল দুই বোনের স্বপ্ন

ঢাকা যাওয়ার আগের দিনই নিভে গেল দুই বোনের স্বপ্ন
×

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

মাত্র সাত দিন আগে ভেঙে যায় দুলালী খাতুনের (২৩) সংসার। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে বাবার মতো ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শুক্রবার ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কাটা হয়েছিল বাসের টিকিট। কিন্তু নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে রাজধানীতে যাওয়া আর হলো না। তার আগেই বাড়ির পাশের মরা কাল নদীর পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে দুলালীর। একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তার ছোট বোন সুরভী খাতুন (১৩) ও ভাবি সুমাইয়া আক্তার আকলিমা (১৯)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া বাজার এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। 
একদিন পরই যে মেয়েটির নতুন জীবনের সন্ধানে ঢাকা যাওয়ার কথা, সেই দুলালী আজ চিরবিদায় নিয়েছেন। সঙ্গে চলে গেছে তাঁর ছোট বোন ও ভাবি। একটি পরিবারের তিনটি প্রাণের এমন করুণ পরিণতিতে মধ্যপাড়াজুড়ে এখন শুধু শোক আর নিস্তব্ধতা।

নিহতদের দাদা আতাউর রহমান জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগে দুলালীর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। এরপর নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় তিনি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি নিতে যাচ্ছিলেন। শুক্রবার তাঁর ছোট বোন সুরভীকেও সঙ্গে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা বাড়ির পাশে মরা কাল নদীতে গোসল করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। তিনি বলেন, ‘ধারণা করছি, হয়তো শাপলা ফুল তুলতে পানিতে নেমেছিল। একজন বিপদে পড়লে অন্যরা তাকে বাঁচাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
উদ্ধারকারী মতিয়ার রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে গ্রামবাসী নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে তিনজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। নদীর পাড়ে তাদের কিছু কাপড় পড়ে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহেদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকাহত। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দাফনের প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’
মধ্যপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক উজ্জ্বল কুমার জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইউএনও সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘নিহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে।’

আরও পড়ুন

×