ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া

৪৪০০ বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিলের হিসাবে গরমিল

৪৪০০ বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিলের হিসাবে গরমিল
×

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় প্রায় ৪ হাজার ৪০০ গ্রাহকের জমা দেওয়া বিদ্যুৎ বিলের হিসাবে গরমিল ধরা পড়েছে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ভাণ্ডারিয়া শাখার 
নিরাপত্তা কর্মী উজ্জ্বল মিস্ত্রীর খোঁজ মিলছে না। তিনিসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে এসব গ্রাহকের প্রায় ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয় গ্রাহক ও ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ‘জেএসএস সিকিউরিটি কোম্পানি’র মাধ্যমে কৃষি ব্যাংকের ভাণ্ডারিয়া শাখায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন উজ্জ্বল মিস্ত্রী। তাঁকে দিয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করা হতো। সর্বশেষ গত ১৮ জুন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজ মিলছে না। মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দেয়। 
এদিকে আর্থিক লেনদেনের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আউটসোর্সিং নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়োজিত করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এজন্য কর্মকর্তাদের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন গ্রাহকেরা। তাদের অনেকেই নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুরার ব্যবসায়ী মো. মাসুম জানান, বিষয়টি শুনে গত বুধবার দ্রুত ব্যাংকে ছুটে যান। এ সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাদের কোনো সমস্যা হবে না। বিলের টাকা প্রয়োজনে ব্যাংক পরিশোধ করবে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিয়মের বাইরে গিয়ে কৃষি ব্যাংকের এই শাখায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৫ জুন (শুক্রবার) ৬২২ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫১ টাকা ও গত ৬ জুন (শনিবার) ৫২৮ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৬ টাকা আদায় করা হয়। ব্যাংক সফটওয়্যারে এসব অর্থের এন্ট্রি বা ভুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা জমা হয়নি।

বিদ্যুৎ গ্রাহকের বিপুল অঙ্কের টাকা লুটের পেছনে নিরাপত্তাকর্মী উজ্জ্বল মিস্ত্রী ছাড়াও একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত বলে কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে। এমনকি ওজোপাডিকোর ভাণ্ডারিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যালয়ের আউটসোর্সিং কম্পিউটার অপারেটর সুশান্ত ও নেয়ামত উল্লাহ রেজভীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। এই দুজনের দায়িত্ব ছিল নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল আদায়ের হিসাব যাচাই-বাছাই (অডিট) করে আবাসিক প্রকৌশলীর কাছে প্রতিবেদন দেওয়া। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল টাকার গরমিল থাকলেও তারা কর্তৃপক্ষকে জানাননি। 
ভাণ্ডারিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফিরোজ হোসেন সন্যামত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ওজোপাডিকো ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। কোনো সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র এর পেছনে রয়েছে কিনা, তা উদঘাটনে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি হয়েছে। এর নেতৃত্বে আছেন ওজোপাডিকো বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল) প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার ও বরিশাল আঞ্চলিক হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম। নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 
কৃষি ব্যাংকের ভাণ্ডারিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মিঠুন দে জানিয়েছেন, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করেছে। নিরাপত্তাকর্মী উজ্জ্বলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ডায়েরি করা হয়েছে। কত টাকা নিয়ে তিনি পালিয়েছেন, এর সঠিক পরিমাণ তদন্তের পরে বলা যাবে। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের টাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করবে বলেও জানান তিনি। 

আরও পড়ুন

×