ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সুন্দরগঞ্জে চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত

সুন্দরগঞ্জে চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত
×

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৮:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

জনবল সংকটে বিঘ্নিত হচ্ছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র সবখানেই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্মচারীর প্রায় সব পদই শূন্য। অস্ত্রোপচারের কক্ষ থাকলেও এর সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা। অল্প কয়েকজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে অন্তত ৮ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা। তিন বছর ধরে নেই অ্যাম্বুলেন্স চালকও।

জানা গেছে, ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৭টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৬২টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৩৩টি মঞ্জুরীকৃত পদ আছে। এর মধ্যে ১৩৬টি পদ শূন্য। ১৫টি ইউনিয়নে ১৫ জন মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ১৫ ইউনিয়নে ১৭ জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স চালকের মঞ্জুরীকৃত পদ আছে। তবে এর বিপরীতে একজনও মেডিকেল অফিসার, সার্জন ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই। সার্জন না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারের সেবা বন্ধ। পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। 

২০২৩ সালের ২২ জুলাই থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদ শূন্য। ফলে কম খরচে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো রোগী। দ্বিগুণ, তিনগুণ ভাড়া দিয়ে বেসরকারি মালিকানার অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে রোগীদের অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি সচল ও একটি অচল অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সুন্দরগঞ্জ থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী বহনে ভাড়া দিতে হয় ১১২০ টাকা। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দিতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জোবাইদুর রহমান বলেন, দীর্ঘ তিন বছর ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স দুটি পড়ে রয়েছে, দেখার কেউ নেই। একটি মাঝে মাঝে চলে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ জন রোগী এখান থেকে রংপুরে রেফার করা হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অধিক ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে রোগী রংপুরে নিতে হয় রোগীর স্বজনদের। তিনি আরও বলেন, অল্প কয়েকজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। এ ছাড়া রোগীদের খাবারের মান ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগী সেলিম মিয়া বলেন, এখানকার বাথরুমগুলো ব্যবহার করা যায় না। পানীয় জলের অভাব, খাবারের মান একবারেই খারাপ। প্রায় সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। ছাপড়হাটী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা সুমন মিয়া বলেন, এখানে মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে কোনো দিন মেডিকেল অফিসারকে আসতে দেখিনি। মাঝে মাঝে ওয়ার্ড বয়, কোনো সময় পিয়ন ওষুধ বিতরণ করে থাকেন। কাপাসিয়ার দুর্গম চর কালাইসোতা গ্রামের আনছার আলী বলেন, শুনেছি গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্য সহকারী রয়েছে। কোনোদিন তাদের দেখিনি। কমিউনিটি ক্লিনিকে মাঝে মাঝে ওষুধ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নদীতে ভাসমান হাসপাতাল এসে মাঝে মাঝে ওষুধ দিয়ে যায়। 
স্বাস্থ্য পরিদর্শক জুলফিকার ‌আলী সরদার চন্দন বলেন, অনেক স্বাস্থ্য সহকারী অবসর গ্রহণ করেছেন। এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো প্রকার জনবল নিয়োগ হয়নি। জনবল নিয়োগ ওপর মহলের ব্যাপার, এখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করার কিছুই নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক বলেন, বেশির ভাগ মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের চালকের পদও খালি। তবে তাঁর গাড়িচালক বেশির ভাগ সময় অ্যাম্বুলেন্সটি চালান। 
 

আরও পড়ুন

×