খুলনা নগরীর সড়ক
দুই সংস্থার ঠেলাঠেলিতে আটকা সংস্কার, ভোগান্তি নাগরিকদের
দুই শতাধিক সড়ক তিন থেকে ১০ মাস খুঁড়ে রাখা হয়েছে
হাসান হিমালয়, খুলনা
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
পয়োনিষ্কাশন পাইপলাইন স্থাপনের জন্য নগরীতে ছোট-বড় অনেক সড়ক খুঁড়েছিল খুলনা ওয়াসা। এর মধ্যে ৭১টি সংস্কার করা হয়েছে। এখনও বাকি দুই শতাধিক। তিন থেকে ১০ মাস ধরে এ অবস্থায় আছে সড়কগুলো। চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের।
এদিকে খুঁড়ে রাখা বাকি সড়কগুলো কোন সংস্থা সংস্কার করবে, তা নিয়ে সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও ওয়াসার মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ছয় মাস ধরে এ নিয়ে দুপক্ষের চিঠি চালাচালি ও একাধিক বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। দুই সংস্থার ঠেলাঠেলিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের।
ওয়াসার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কেসিসির মালিকানাধীন সড়ক মেরামতের জন্য ১১২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তারা ৯৮ কোটি টাকা খরচ করেছে। বাকি ১৪ কোটি টাকা দিয়ে ১৯৫টি ছোট সড়ক এক মাসের মধ্যে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে নগরবাসীকে ভোগান্তিমুক্ত করা সম্ভব। কেসিসি এই টাকার মধ্যে সংস্কারে সম্মত না হলে টাকা ফেরত দিক।
অন্যদিকে কেসিসি বলছে, ছোট সড়কগুলো ওয়াসা চাইলে নিজেরা মেরামত করতে পারে। বড় সড়ক সংস্কারে অভিজ্ঞতা ওয়াসার নেই। সব টাকা ফেরত দিলে বড় সড়কগুলো মেরামত করা হবে না। তখন ভোগান্তির জন্য কেসিসিকে দায়ী করবে মানুষ।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনা শহরের গৃহস্থালি, মানুষের ও শিল্প বর্জ্য নিষ্কাশন হয় উন্মুক্ত পরিবেশে। মহানগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য দুই হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বড় প্রকল্পের কাজ শুরু করে ওয়াসা। প্রকল্পের আওতায় নগরীর ১৫ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭ হাজার বাড়ির পয়োবর্জ্য সংগ্রহ করে শোধনাগারে নেওয়া হবে। এ জন্য নগরীর ভেতরে ২৫৫ কিলোমিটার পাইপলাইন, প্রায় ১২ হাজার ৪৯০টি ম্যানহোল, ২৭ হাজার গৃহসংযোগ, দুটি শোধনাগার এবং আটটি পাম্প স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। পাইপ স্থাপন এবং ম্যানহোল স্থাপনের জন্য ৫০ থেকে ১০০ মিটার পরপর সড়কের কিছু অংশ খুঁড়তে হচ্ছে। কিছু ছোট সড়ক সম্পূর্ণ খুঁড়ে পাইপ বসানো হচ্ছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে ২১৫ কিলোমিটার পাইপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। সাড়ে ১০ হাজারের মতো ম্যানহোল স্থাপন করা হয়েছে। নগরীর প্রধান কিছু সড়ক বাদে অধিকাংশ এলাকায় পাইপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। সড়ক খুঁড়ে পাইপ স্থাপনের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে কেসিসিকে ১১২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এই টাকা দিয়ে সব সড়ক মেরামত করা কথা ছিল। কিন্তু কেসিসি মোট ৬৪১ কোটি চায়, সেখান থেকে শুরু হয় জটিলতা।
ভোগান্তি নাগরিকদের
নগরীর শেখপাড়া স্টাফ কোয়াটার এলাকার বাসিন্দা আমির সোহেল বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে সড়কের মাঝে ম্যানহোল ও পাইপ বসানো হয়। বলেছিল, দুই মাসের মধ্যে সংস্কার করবে। আশপাশের সড়ক সংস্কার হলেও আমাদের গলি প্রায় দেড় বছর ধরে বেহাল। মোটরসাইকেল অন্যের বাড়ি রেখে এর পর বাড়িতে ঢুকতে হচ্ছে।
২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াপাড়া দ্বিতীয় গলির বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, সাইকেল-রিকশা দূরের কথা, সড়কে হাঁটার মতোও অবস্থা নেই। ছয় মাসেরও বেশি হয়েছে, ঠিক হচ্ছে না। বৃষ্টিতে, কাদাপানিতে নাকাল হতে হচ্ছে।
নগরীর ১৭, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এ ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
দুর্ভোগ দূর করার আশ্বাস কর্মকর্তাদের
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, ম্যানহোল বসানোর জন্য ২০ ফুট গর্ত খুঁড়লে সড়কের আশপাশের অংশও সেই গর্তে ধসে পড়ে। কোথাও সড়কের বড় অংশ দেবে যায়। তখন সড়ক পুরোটাই মেরামত করতে হয়। এ জন্য খরচ হয় বেশি। এসব বিবেচনায় ওয়াসার কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হয়েছিল। এখন ওয়াসাই তাদের সড়ক মেরামত করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
খুলনা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক খান সেলিম আহমেদ বলেন, অর্ধসমাপ্ত ১৯৫টি ছোট সড়ক শুধু কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে এক মাসের মধ্যে চলাচল উপযোগী করা সম্ভব। এতে সর্বোচ্চ ১২-১৩ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। কেসিসির কাছে এখনও ১৪ কোটি টাকা রয়েছে। তারা সেই টাকা দিয়ে সড়ক মেরামত করুক, না হলে টাকা আমাদের ফেরত দিক। বিষয়টি নিয়ে কেসিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। দ্রুত সমাধান হবে।
- বিষয় :
- সড়ক
