ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা: ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ
ক্রিকেটার নাঈম। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ২২:১৩ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ২২:১৬
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা করার ঘটনায় পুলিশের দোষ থাকার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কমিটির কর্মকর্তারা। রোববার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, এ ঘটনার যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করেছেন তদন্ত কমিটি। ঘটনার পর যাদের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তার বাইরেও কিছু পুলিশ সদস্যের দোষ মিলেছে প্রতিবেদনে। এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা এড়াতে পুলিশ সদস্যদের আচরণগত ও মানবিক বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ, নিয়মিত ব্রিফিং, দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বাড়াতে মোটিভেশনাল সেশন, শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ তদন্ত প্রতিবেদনে সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে প্রাথমিক তদন্তে অপেশাদার আচরণের অভিযোগে নগরের খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এই দুইজনসহ আরও এক পুলিশ সদস্যের দোষ প্রমাণ পাওয়ার কথা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে কমিটির সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন রাতে নগরের লালখান বাজার মোড়ে অটো রিকশা আটকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে খুলশী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। নানাভাবে হুমকি-ধমকির পাশাপাশি এসময় মারধর করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসান। ওই দিন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচ খেলে বিমানে করে চট্টগ্রাম এসেছিলেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে অটো রিকশা করে চান্দগাঁও এলাকায় নিজের বাসায় যাওয়ার পথে তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ঘটনাটি চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সমালোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি নজরে আসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালের।
পরে তিনিও বিষয়টি নিয়ে পুলিশসহ নানা মহলে ফোন করেন। ঘটনার যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখতে ও ভুক্তভোগী নাঈমের স্বাস্থ্যগত বিষয় দেখভাল করতে ঢাকা থেকে পাঠান একটি টিমকেও। পরে ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের ফোন পেয়ে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্য এবং পুলিশের উর্ধ্বনত কর্মকর্তারা থানায় গিয়ে নাঈমকে ছাড়িয়ে আনেন। নাঈমের বাসায় গিয়ে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। গত ১৮ জুন কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও কমিশনার কমিটিকে আরও চার কার্যদিবস সময় দেন। সেসময় শেষ হওয়ার পর রোববার কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ ঘটনায় নাঈম হাসানের ভাই কামরুল আলম দুই পুলিশ সদস্য ও সোর্স সোহেলকে আসামি করে মামলা করেছিলেন।
