সাভারে ছাত্রদল নেতার লোকজনের হুমকি
নিরাপত্তাহীনতায় কিশোরের পরিবার, মামলা তুলতে চাপ
ছবি-সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ২২:৫৬
ঢাকার সাভারের রাজাসন মহল্লার ঈদগাঁও মাঠের অদূরে শাজাহানের বাগানবাড়ী লাগোয়া একটি টিনশেড ঘর। সেখানে মা-বাবার সঙ্গে থাকে নির্যাতনের শিকার কিশোর রিপন দাস। রোববার দুপুরে আরও দুজন সাংবাদিকের সঙ্গে ঘরটিতে গিয়ে দেখা যায়, কঙ্কালসার রিপন শুয়ে আছে বিছানায়। পাশে বসে আছেন তাঁর মা আশন্তি। ছেলের চোখ-মুখ মুছে দিচ্ছেন। তাঁর দুই চোখ থেকে জল ঝরছে। ঘরের ভেতর আছেন রিপনের বাবা ও এক বোন। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তারা কোনো কথা বলতে চাইলেন না। তাদের চোখে-মুখে আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ওই ঘরে মাঝবয়সী এক ব্যক্তি ঢুকেছিলেন। কিছুক্ষণ পর এক যুবক ঢোকেন। জানান, মাহবুব হোসেন সামির তাঁকে পাঠিয়েছেন। সামির সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা। কিশোর রিপনকে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি। এরপর ওই যুবককে উদ্দেশ করে মাঝ বয়সী লোকটি বলেন, ‘তুমি এখান থেকে চলে যাও, আমি আছি।’
মামলা করার পর থেকে এভাবেই সামিরের লোকজন কিশোর রিপনের পরিবারটিকে চোখে চোখে রাখছেন। ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন। মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে সামিরের মা ও এক মামা এসে রিপনের চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। মামলা তুলে নিতে বলে গেছেন।
নির্যাতনের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (বর্তমানে বহিষ্কৃত) মাহবুব হোসেন সামিরকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতানামা ৫-৬ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন রিপনের বোনজামাই স্বপন সূত্রধর। চার দিন পার হলেও কোনো আসামি আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি।
মামলার বাদী স্বপন সূত্রধর সমকালকে বলেছেন, এজাহারভুক্ত আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মামলা তুলে নিতে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। রিপনের পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে প্রধান আসামি সামির সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বলেছেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
জানা গেছে, রিপনের মা আশন্তি ঋষি মনি দাস একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বাবা জীবন মনি দাস ওই এলাকায় চর্মকারের কাজ করেন। দুই বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে রিপন সবার ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে।
আজ দুপুরে এক পর্যায়ে ‘সামিরের পাঠানো’ সেই মাঝবয়সী লোকটি চলে গেলে রিপন দাস সমকালকে জানান, গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাসন পালোয়ানপাড়া এলাকায় রাজধানী বেকারির সামনে থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় একটি অফিসে। সেখানে দেয়ালের সঙ্গে তাঁর মাথা আছড়ে মারা হয়। লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। তাঁর দুই চোখেও আঘাত করা হয়। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তদের একজন তাঁর হাতে একটি চাকু ধরিয়ে দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে রিপন আরও জানায়, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অস্ত্রোপচার করতে হবে। এখন শরীর খুব দুর্বল। তা ছাড়া অস্ত্রোপচার করানোর টাকাও নেই পরিবারটির হাতে। সে আরও জানায়, তার চোখের কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখের উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) নূর মোহাম্মদ জানান, আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শিগগির এই মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।
