ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

চাকরি হারালেন ১৭ শিক্ষক

গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি ও নৈতিক স্খলন

চাকরি হারালেন ১৭ শিক্ষক
×

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৮:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নানা অভিযোগে ১৭ শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করেছে। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের সই করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই শিক্ষকদের মধ্যে শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান না করায় ১৬ জনকে ও একজনকে চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনজনিত কারণে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। 

যোগদান না করায় চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা হলেন– ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম, আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার, প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস; পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দেবব্রত পাল, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, ফার্মাসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন, অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জল হুসাইন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন। 
অফিস আদেশের বলা হয়েছে, ছুটিতে বিদেশে অবস্থানরত ১৬ শিক্ষককে বারবার লিখিতভাবে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সাড়া না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে গত ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার (৪৩/১০ নম্বর) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ জনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  
এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রিজেন্ট বোর্ডের পৃথক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ জুন থেকে তাঁর চাকরিচ্যুতি কার্যকর হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিলে ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে ৫ সদস্যের একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্তে দেখা যায়, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের তারিখ, থিসিস ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র ও ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেননি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও তিনি জবাব দেননি।
অফিস আদেশে বলা হয়, ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে গঠিত সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ পর্যালোচনা করে তাঁকে সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্ত বলে মত এসেছে। এরই ভিত্তিতে রিজেন্ট বোর্ড ফাতেমাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
অফিস আদেশে চাকরিচ্যুত সব শিক্ষককেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণ করা টাকা বিধি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানকে গতকাল সোমবার কয়েক দফায় কল দিলেও তারা কেউ ধরেননি।
 

আরও পড়ুন

×