ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বাড়ছে নদীর পানি, গাইবান্ধায় ভাঙন আতঙ্কে মানুষ

বাড়ছে নদীর পানি, গাইবান্ধায় ভাঙন আতঙ্কে মানুষ
×

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টিতে কয়েক দিন ধরে গাইবান্ধায় তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি দ্রুতই বাড়ছে। ইতোমধ্যে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিলীন হয়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি, সবজি ক্ষেত ও বসতভিটা। গৃহহীন হয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী আট শতাধিক পরিবার। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপারের মানুষের।
গতকাল বুধবার সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ভাঙনে প্রায় ১০০ বিঘা আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। একটি মাদ্রাসা নদীতে চলে গেছে। প্রায় ৭০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলার ভাঙনকবলিত এলাকার মধ্যে রয়েছে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসীঘাট, রসুলপুর, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের মধ্য ও দক্ষিণ খাটিয়ামারীর চর ও চর চৌমোহন।
সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের সিধাইল এলাকায় নদীভাঙনে ইতোমধ্যে ৩০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙনের মুখে আছে আরও অনেক পরিবার। সেখানকার একমাত্র সিধাইল কওমি মাদ্রাসাটিও রয়েছে ভাঙনের মুখে। 

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগামী বুধবার থেকে গাইবান্ধাসহ কয়েকটি জেলায় টানা তিন থেকে চার দিন বৃষ্টি হতে পারে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হলে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার নদীতীরবর্তী অঞ্চল ও চরাঞ্চলে ২০ থেকে ২৫টি স্পটে ভাঙন শুরু হয়েছে। 

নাগেশ্বরীতে কমছে পানি
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, গত মঙ্গলবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, গঙ্গাধর, শংকোষ, ফুলকুমারের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে নদনদী অববাহিকার প্লাবিত চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামেনি। পানি কমতে শুরু করায় কোথাও কোথাও নদনদীর পারে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি জানান, প্রবল বর্ষণ ও নতুন করে উজানের ঢল না এলে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে প্লাবিত এলাকা থেকে পানি সম্পূর্ণ নেমে যাবে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়নের কুটির চর, মুড়িয়াহাট, তেলিয়ানীর কুটিতে কিছুটা ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ভাঙন দেখা দিয়েছে কেদারের মণ্ডলপাড়া, ফান্দের চরসহ প্লাবিত এলাকার দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের তীরে।

আরও পড়ুন

×