ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

যমুনার ভাঙনে নদীগর্ভে দুই হাজার ঘরবাড়ি, শত শত হেক্টর জমি

যমুনার ভাঙনে নদীগর্ভে দুই হাজার ঘরবাড়ি, শত শত হেক্টর জমি
×

ছবি- সমকাল

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ১৭:০৬

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ বছর ধরে চলমান ভাঙন চলতি বছর আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি, বারপাখিয়া, মোহনপুর ও বৃহৎ হাতকোড়া গ্রামের বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তবে ভাঙন ঠেকাতে এ চরাঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো প্রকল্প নেই।

স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ বছরে দুই ইউনিয়নে অন্তত দুই হাজার বসতঘর, চারটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা, দুটি হাট-বাজার এবং প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ হেক্টর কৃষিজমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। চলতি বছরের ভাঙনে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। মাত্র এক মাস আগেও যেখানে মানুষের বসতি ছিল, এখন সেখানে বইছে যমুনার স্রোত।

ধীতপুর গ্রামের শতবর্ষী রহিতন বেগম বলেন, সারা জীবন কষ্ট করেছি। এখন শেষ বয়সে নদী সবকিছু নিয়ে গেছে। স্বামীহারা মেয়েকে নিয়ে একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘরে আছি। এই ঘরটাও যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।

একসময় এ চরাঞ্চল সবজি ও রবিশস্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল। পটল, বেগুন, ধান, বাদাম, মাষকলাই, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে কৃষকেরা স্বচ্ছল জীবনযাপন করতেন। কিন্তু ধারাবাহিক ভাঙনে সেই কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে।

কুরসি গ্রামের কৃষক ইয়াসিন মোল্লা জানান, তাদের গোষ্ঠীর প্রায় ৬০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, গত তিন থেকে চার মাসে ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি বসতঘর নদীতে হারিয়ে গেছে।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত বছর এ দুই ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। যদিও নতুন কিছু চর জেগেছে, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পূরণ হয়নি। তাই স্থায়ী ভাঙনরোধী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত ভাঙনকবলিত চরাঞ্চল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সারমিন এবং সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, শাহজাদপুরের সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ভাঙনরোধে বর্তমানে পাউবোর কোনো প্রকল্প নেই। চরাঞ্চলে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ছাড়া এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

×