ঢেউয়ে ভাঙছে কুয়াকাটা সৈকত ঝুঁকিতে স্থাপনা
পূর্ণিমা ও বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। এতে ভাঙনের শিকার হচ্ছে তীরের স্থাপনা। গতকাল শনিবার সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকায় সমকাল
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দিনের পূর্ণিমার জোয়ার, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে সৈকত-সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষয়ে গেছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন সমুদ্রসৈকত জামে মসজিদ, শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ বক্সসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ পরিস্থিতে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এসব স্থাপনা সাগরে বিলীন হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
গতকাল শনিবার দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা জোয়ার ও উত্তাল ঢেউয়ে সৈকতের বিভিন্ন অংশের বালু সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের ঢেউ উপকূলের অনেক ভেতর পর্যন্ত আঘাত হানছে। এতে সৈকতের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ভাঙন বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। জিরো পয়েন্টের পূর্ব পাশে অবস্থিত সৈকত জামে মসজিদের সামনের বালুচর ইতোমধ্যে সরে গেছে। একইভাবে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সামনেও ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট। মাটি সরে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশের অস্থায়ী বক্সের নিচ থেকেও।
ব্যবসায়ী মো. রাসেল রুম্মানের ভাষ্য, জোয়ারের ঢেউ আগের চেয়ে অনেক বেশি ভেতরে চলে আসছে। কয়েক মাস আগেও যেখানে পর্যটকরা নিশ্চিন্তে হাঁটাচলা করতেন, এখন সেখানে বড় বড় গর্ত। মসজিদ, মন্দির ও পুলিশ বক্সের খুব কাছে পানি চলে আসছে।
ঢাকা থেকে আসা তাহমিদ হোসেন বলেন, ‘কুয়াকাটার সৌন্দর্য দেখতে এসেছি, কিন্তু সৈকতের ভয়াবহ ভাঙনের দৃশ্য দেখে সত্যিই হতাশ হয়েছি।’
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এক দশকে কুয়াকাটা ঘিরে শত শত কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে। আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি ও বিভিন্ন পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। পর্যটকের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়লে এই শিল্প বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।
কলাপাড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, সৈকতের ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদিত হলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৈকত সংরক্ষণ, ভাঙন প্রতিরোধ ও পর্যটন এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যাবে।
- বিষয় :
- কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত