দুধকুমারের গ্রাসে দুই গ্রামের ২০ বাড়ি-জমি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যার পর দুধকুমার নদের পারসংলগ্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার কুটিপাড়া থেকে তোলা সমকাল
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে কমেছে বন্যার পানি। দেখা দিয়েছে ভাঙন। এক সপ্তাহের মধ্যে দুধকুমার নদের গ্রাসে গেছে পাশাপশি দুটি গ্রামের প্রায় ২০টি বাড়ি। অব্যাহত ভাঙনে শঙ্কিত নদ তীরবর্তী মানুষ।
বন্যার পরে এখন ভাঙন দেখা দিয়েছে দুধকুমার নদ পারের কেদারের মণ্ডলপাড়া, কচাকাটার ধনিরামপুর, মধ্য ধনিরামপুর, বল্লভেরখাসের মাঝিপাড়া, রামদত্ত মাঝিপাড়া, ইসলামপুর, রায়গঞ্জের হাজীর মোড় বাজার এলাকা, বেরুবাড়ীর খেলারভিটা, খামার নকুলা, বামনডাঙ্গার মুড়িয়াহাট, তেলিয়ানীর কুটি, মালিয়ানীসহ অনেক এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, স্বল্পস্থায়ী এ বন্যার পানি প্রবেশ থেকে নেমে যাওয়া পর্যন্ত গত পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে দুধকুমার ভেঙে গিলে খেয়েছে রায়গঞ্জ রতনপুর হাজীপাড়া-সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের কুটিপাড়া ও কমলারকুটি গ্রামের আব্দুল মোত্তালেব, আব্দুল খালেক, আমজাদ হোসেন, আশরাফ আলী, শহীদ মিযা, আব্দুর রশিদ, আশরাফুল আলম, সাইফুর রহমান, রশিদুল ইসলাম, পন্টিত আলী, জালাল হোসেন, আব্দুল হক, চাঁদ মিয়া, সাদ্দাম আলী, খলিল, আয়নাল হক, আমাল উদ্দিন, মজাহার আলী, মোজ্জাম্মেল হক, কয়েদ ভান, আমিনা বেগমসহ অনেকের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বাগান।
ক্ষতিগ্রস্তদের কয়েকজন জানান, ভাঙন এতটাই তীব্র যে ঘরবাড়ি খুলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার আগে তাদের চোখের সামনেই তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদে। কোনো কিছুই আটকানো যাচ্ছে না। মুহূর্তে তারা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। ভাঙন আতঙ্কে নদে পারের কেউ কেউ পরিবার পরিজন পাড়ি জমাচ্ছেন অন্যত্র। এ থেকে পরিত্রাণে ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা। স্থানীয় রশিদ মণ্ডল, জিয়াউর রহমান, শামছুল হক, জাকিউল ইসলাম, আবুল কাশেমসহ অনেকেই জানান, বন্যার ধাক্কা কিছুটা কাটতে না কাটতেই ভাঙন দেখা দেওয়ায় তারা শঙ্কিত। তারা দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দাবি জানান।
আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের কমলারকুটি গ্রামের আব্দুল মোত্তালেব বলেন, দুধকুমারের ভাঙনে আমার সব চইলা গেল। সুপারির বাগান, ফসলি জমি, সব আগেই খাইছে নদে। এবারে শেষ সম্বল ভিটাটাও চইলা গেল, এখন কই যাইয়া যে থাকুম, কী খইয়া বাচুম, আল্লাহই জানে। কুটিপাড়া গ্রামের আমেনা বেগম বলেন, আমার শেষ সম্বল স্বামীর ভিটাখানও চইলা গেল, এহন পরের জায়গায় ঘর তুইলা কোনোমতে বাস করতাছি। আল্লাহ ছাড়া দেহনের আর কেউ নাই।
রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, কদিনের বন্যার পানি টানার সঙ্গে সঙ্গে দুধকুমার নদের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কিছুই নদের গর্ভে চলে গেছে। বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে জানানোর পরও এখন পর্যন্ত কেউ দেখতে আসেনি, আর কবে আসবে জানি না।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি জানান, বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ইউনিয়নেরও বেশ কয়েকটি জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙনের বিষয়টি শুনেছি। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- বন্যা