ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

‘বিএনপিরে মামলা দিয়া দৌঁড়ামু, আ’লীগরে কোলে লইয়া নাচমু’, ভিডিও ভাইরাল

‘বিএনপিরে মামলা দিয়া দৌঁড়ামু, আ’লীগরে কোলে লইয়া নাচমু’, ভিডিও ভাইরাল
×

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৪ | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৯

‘বিএনপিওলারা আমারে ক্ষতি করতাছে। নির্বাচনের পর অগরে মামলা দিয়া দৌঁড়ামু। আর আওয়ামী লীগওলাগো কোলে লইয়া নাচমু, চিন্তা কইরেন না।’ ৩২ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে নিজ দলের নেতাকর্মীকে হুমকি দিয়ে এভাবে কথা বলতে দেখা গেছে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে।

গতকাল শনিবার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। আজ রোববারও ভিডিওটি ফেসবুকে দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা। জাহাঙ্গীর আলম সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।

ভাইরাল ভিডিওতে জাহাঙ্গীর আলমকে কোনো এক স্থানে নিজের অনুসারীদের নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলতে শোনা যায়। ফোনের অপরপ্রান্তের কোনো এক ব্যক্তিকে ভাইরাল হওয়া কথাগুলো বলেন জাহাঙ্গীর আলম। দায়িত্বশীল পদে থেকে নিজ দলের নেতাকর্মীকে এভাবে হুমকি দেওয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তার ভাষ্য, এই ধরনের কোনো কথা বলেননি তিনি। ভাইরাল করা ভিডিওতে আগে ও পরের কোনো বক্তব্য নেই। শুধু দুটি বক্তব্যকে ছাড়া হয়েছে। তার অভিযোগ, তার ভাগনে নোবেল মীরের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা থাকায় এটি ভাইরাল করেছেন। তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এআই দিয়ে এটি তৈরি করে ভাইরাল করেছেন নোবেল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিএনপি নেতা দাবি করেন, এমন বক্তব্য একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখ থেকে কোনোভাবে কাম্য নয়। যদিও ভিডিওটি আগের। ভিডিওটি প্রচার হওয়ার কারণে ইউনিয়ন বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ শাসন আমলে হামলা মামলার শিকার হওয়ার পরও যদি বিএনপির শীর্ষ নেতার মুখ থেকে এমন বক্তব্য আসে তাহলে তাদের বিএনপি করার দরকার নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি। এই ভিডিওর জন্য মৌখিকভাবে তার কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাকে দল থেকে শোকজ করা হবে। এই ঘটনায় দুই-একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ভাষ্য, এই ধরনের বক্তব্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে তিনি যদি সত্যিই এমন কথা বলে থাকেন, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সত্যতা নিশ্চিত হলে দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×