ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

গাজা সেবনকারীদের ছাড়াতে থানায় ঢুকে শ্রমিক দল নেতার মাতলামি, জরিমানায় মুক্তি

গাজা সেবনকারীদের ছাড়াতে থানায় ঢুকে শ্রমিক দল নেতার মাতলামি, জরিমানায় মুক্তি
×

শ্রমিক নেতা মোস্তফা শেখ দুলাল

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৪৭

দুই গাজা সেবনকারীকে ছাড়াতে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় গিয়ে মাতলামি করার অভিযোগ উঠেছে নগরীর ১৮নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা শেখ দুলালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক সহযোগীসহ ওই শ্রমিক দল নেতা আটক করে পুলিশ। রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

আজ রোববার দুপুরে শ্রমিক নেতা মোস্তফা শেখ দুলাল, তার সহযোগী ও আটক দুই গাজা সেবনকারীকে ফৌজদারি কার্যবিধির সংক্ষিপ্ত বিচার ধারায় (সামারি ট্রায়াল) আদালতে তোলা হয়। খুলনা মহানগর হাকিম মো. আসাদুজ্জামান ৪ জনকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। একই সঙ্গে গাজা সেবনকারী পারভেজ শেখ ও আবদুল্লাহকে তিন মাস পরিবারের জিম্মায় প্রবেশন (সংশোধনের সুযোগ) এবং মোস্তফা শেখ দুলাল ও সহযোগী শরিফুলকে ছয় মাস পরিবারের জিম্মায় প্রবেশন দেওয়া হয়।

এ দিকে মোস্তফা শেখ দুলালকে শ্রমিক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা মহানগরের অন্তর্গত ১৮নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা শেখ দুলালকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। খুলনা মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মজিবর রহমান ও সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম শফি আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।’

খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর দারুস সালাম মহল্লা থেকে গাজা সেবনরত অবস্থায় দুই যুবককে আটক করা হয়। তাদের ছাড়াতে থানায় যান মোস্তফা শেখ দুলাল। প্রায় এক ঘণ্টার মতো থানায় অবস্থানকালে তিনি সবার সঙ্গেই মাতলামি করেন। পরে কর্মকর্তারা গেলে তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় তার মুখ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসছিল। তাকে হাসপাতালে নিয়ে পাকস্থলী পরিষ্কার এবং আটক রাখা হয়। সকালে সামারি ট্রায়ালের জন্য আদালতে পাঠানো হয়।’

অভিযোগের তদন্তকারী সোনাডাঙ্গা থানার অপারেশন কর্মকর্তা এস আই নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘ওই ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে উত্থাপন করলে বিচারক এক হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রবেশন দেন। এর মধ্যে তারা সংশোধন না হলে এবং একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে ওই দিন থেকেই তিন মাসের কারাদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন

×