ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে তরুণকে হত্যার ঘটনায় খেলাফত মজলিস-ওলামা দল নেতাসহ আসামি ২১

নারায়ণগঞ্জে তরুণকে হত্যার ঘটনায় খেলাফত মজলিস-ওলামা দল নেতাসহ আসামি ২১
×

ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০২:৪৩

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে সিজান নামে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার নিহতের মা শিল্পী বেগম এ মামলা করেন। মামলায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতাসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, গত শনিবার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় সিজানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গতকাল সকালে এ ঘটনায় হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়।

তিনি বলেন, ছেলের মরদেহ দাফনের পর শিল্পী বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হননি। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খেলাফত মজলিসের সদর থানা শাখার সাবেক সহসভাপতি মুফতি কাউছার আহাম্মেদ কাসেমী (৪০), জেলা কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি (৫০), জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ফতুল্লা থানার আহ্বায়ক জিলানী ফকির (৫৫), একই এলাকার বাসিন্দা আজহার রাজমিস্ত্রী (৫৫), সাইদুল (৪২) ও আলম (৩৮)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, মামলার বাদী শিল্পী বেগমের ছোট ছেলে সিজান আগে কিছু খারাপ লোকজনের সঙ্গে মিশত। একপর্যায়ে সে বিপথগামী হয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে ওইসব কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে আনে। তাঁকে তাবলিগেও পাঠানো হয়। বড় ভাইয়ের কাঁচামালের ব্যবসায় তিনি সহযোগিতা করছিলেন।

শনিবার দুপুরের পর অনিক (২৮) নামে এক তরুণকে মোবাইল ফোন চোর সন্দেহে আটকে পশ্চিম মাসদাইরের আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে মারধর করছিলেন মামলার ওই আসামিরা। একপর্যায়ে অনিকের কথা শুনে তারা বিকেল ৪টার দিকে সিজানকে বাসার সামনে থেকে ধরে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তাঁকে মারধর শুরু করা হয়।

মারধরের একপর্যায়ে অনিক ও সিজানকে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর স্টিলের পাইপ দিয়ে বেদম পেটানো হয়। সিজান সহ্য করতে না পেরে জোরে জোরে চিৎকার করছিল। এ জন্য সিজানের মুখে কালো কাপড়ে বেঁধে পেটানো হয়। খবর পেয়ে শিল্পী বেগম সেখানে গিয়ে ছেলেকে ছেড়ে দিতে তাদের (মামলার আসামি) অনেক অনুনয়বিনয় করেন। কিন্তু তারা শোনেননি। তাঁর সামনেই ছেলেকে পেটাতে থাকেন তারা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে অচেতন অবস্থায় ছেলেকে তাঁর (শিল্পী) জিম্মায় দেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় তিনি ছেলেকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, আইন কেউ নিজ হাতে তুলে নিতে পারে না। আইন প্রয়োগের জন্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থা আছে। কেউ অপরাধ করলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেই জানাতে হবে।

আরও পড়ুন

×