ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি

আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি
×

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের ৩৯ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে আংশিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের ১৬ জুন ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ বছর পর সেই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা শীর্ষ নেতৃত্ব বণ্টনে এমপি-মন্ত্রীদের লবিংয়ে আঞ্চলিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন।

নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন আগের কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের মাসুদ রুমি মিথুন। সদস্য সচিব আছেন আগের কমিটির সদস্য ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রাফিজ আহমেদ। পূর্ববর্তী কমিটিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করা পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের আনোয়ার পারভেজ নতুন কমিটিতেও একই পদ পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাদের তিনজনের যৌথ স্বাক্ষরে সব সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হবে। এ ছাড়া কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আরও রয়েছেন নুর উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাব্বির হোসাইন, আবু সাঈদ রনি, রাকিব হাসান স্বাক্ষর, তৌহিদুল ইসলাম, তাপস অধিকারী, তানভীর সিদ্দিকী, আল আমিন, রিফাত হোসাইন, আরিফুর ইসলাম জনি, আসাদ তৌফিক, নয়ন হোসেন, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী ও সানভীর অনিক। এ ছাড়া সদস্য করা হয়েছে ২৩ জনকে।

আঞ্চলিকতার অভিযোগ
এদিকে এই কমিটির নেতৃত্ব বণ্টনে আঞ্চলিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন ও সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায়। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিটিতে পদ পাওয়া কয়েকজন নেতা। তারা নতুন কমিটিকে ‘শৈলকুপা উপজেলা কমিটি’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে আঞ্চলিক ভারসাম্যের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। মন্ত্রী-এমপিদের লবিংয়ের মাধ্যমে কমিটিকে ঝিনাইদহের বলয়ে রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর আগে ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বেও একই উপজেলার প্রতিনিধিত্ব ছিল। নতুন কমিটিতেও সেই ধারাবাহিকতা রয়েছে। ফলে অন্য অঞ্চলের জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে যোগ্য নেতাদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ তোলেন তারা।

ফেসবুকে তোলপাড়
নতুন কমিটিতে নাম আছে এমন কয়েকজন নেতাও সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে আঞ্চলিকতার ইঙ্গিত করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাসা পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া বা ঝিনাইদহ না।’ আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন লিখেছেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি আমাদের মতো বাইরের মানুষের জন্য না। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শৈলকুপা উপজেলা কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’ একই পদে থাকা রাকিব হোসেন স্বাক্ষরও লিখেছেন, ‘শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শৈলকুপা উপজেলা কমিটি।’
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ একটি পোস্টে লিখেন, ‘উপজেলা কমিটি, ভাগ্য নাকি লবিং?’ পরে তিনি লিখেন, ‘কুষ্টিয়া জেলা জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিকরা এক দিন বুঝবেন ইনশাআল্লাহ। প্রকৃতির বিচার অবধারিত।’

এ বিষয়ে আনোয়ার পারভেজ বলেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত। এখানে আঞ্চলিক বলয়ে বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে কমিটি হয়েছে। ঝিনাইদহকেন্দ্রিক মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের সুপারিশে নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘যোগ্যতাসম্পন্ন কেউ (নেতৃত্বে) এলে মেনে নিতাম। কিন্তু যোগ্যতা বাদ দিয়ে যার সুপারিশ থাকবে সে পদ পাবে, আর যার সুপারিশ থাকবে না, সে পদ পাবে না– এটা মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে হলে তো বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের রাজনীতি করার আগ্রহ থাকবে না।’
আনোয়ার পারভেজ আরও বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, এই মুহূর্তে ইবি ছাত্রদলে আমার চেয়ে যোগ্য কেউ নেই। আগের কমিটিতেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে, এবারও সেই একই পদে রাখা হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি হলে অবশ্যই আমাকে বঞ্চিত করা হতো না।’ 
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নতুন কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুনের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সংযোগ পাওয়া যায়নি। সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদের দাবি, ‘কোনো ধরনের লবিংয়ে নয়, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে যোগ্যতার ভিত্তিতেই কমিটি হয়েছে। আমি অঞ্চলভিত্তিক কোনো কমিটি দেখতে পাচ্ছি না। সব জায়গার লোকই কমিটিতে পদ পেয়েছেন। মূলত সবাই পদপ্রত্যাশী। হয়তো যারা প্রত্যাশিত পদ পাননি, তারা হতাশার জায়গা থেকে এই অভিযোগগুলো করছেন।’
 

আরও পড়ুন

×